রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
বাংকার ছাড়লেন খামেনি, ধ্বংসের ভেতরেই দিলেন বিজয়ের ডাক!
অনলাইন ডেস্ক
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি ঘোষণা করেছেন—এই যুদ্ধে বিজয় এসেছে ইরানের।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে ‘বিজয়ের অভিনন্দন’ জানিয়েছেন খামেনি। পোস্টে ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘ভ্রান্ত ইহুদি শাসনের বিরুদ্ধে এই বিজয় ঐতিহাসিক।’
আলজাজিরা আরও জানায়, খুব শিগগিরই জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দেবেন তিনি। এর আগে একাধিক গণমাধ্যমে খবর আসে, যুদ্ধ চলাকালে খামেনি রাজধানী তেহরানে নিজের বাসভবন ছেড়ে সরে যান এক ‘নিরাপদ বাংকারে’।
বিবিসি জানায়, যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি। ফলে খামেনি যখন প্রকাশ্যে আসবেন, তিনি এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হবেন—এক ক্ষুব্ধ, বিধ্বস্ত, রক্তাক্ত ইরান, যেটির চেহারা আগের মতো আর নেই।
৮৬ বছর বয়সী খামেনি যুদ্ধের সময় প্রাণনাশের আশঙ্কায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আশ্রয় নিয়েছিলেন অজ্ঞাত বাংকারে। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানায় গণমাধ্যম।
এই যুদ্ধবিরতি হয়েছে মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাতারের আমির-এর যৌথ মধ্যস্থতায়। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খামেনিকে হত্যার সম্ভাবনা এখনও উড়িয়ে দেননি।
যুদ্ধ শেষে প্রকাশ্যে এসে খামেনি হয়তো টেলিভিশনে বিজয় দাবি করবেন, তবে বাস্তবতা হবে সম্পূর্ণ উল্টো। ইরানের বেশিরভাগ পারমাণবিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে গেছে, সামরিক অবকাঠামো বিধ্বস্ত, ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের বহু শীর্ষ কমান্ডার নিহত এবং দেশের অর্থনীতি চরম ধসে পড়েছে।
এক সময় তেল রপ্তানিতে বিশ্বনেতৃত্বে থাকা ইরান এখন অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে। অনেকেই মনে করছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়ার দায় নিতে হবে খামেনিকেই। বিশেষ করে তার পরমাণু কর্মসূচি ও চরম ইসরায়েলবিরোধী নীতিই এই সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার লিনা খাতিব বলেন, ‘খামেনির দিনফুরানোর সুর শুরু হয়ে গেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি হতে পারেন সর্বশেষ।’