মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
অদৃশ্য কালো তালিকার শেকল ভেঙে বিটিভিতে ফিরলেন বেবী নাজনীন!
দুই দশকের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে স্বমহিমায় ফিরলেন দেশের নন্দিত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। এক সময়ের বিটিভির নিয়মিত মুখ, অথচ রাজনৈতিক কারণে তাকে টানা ২০ বছর রাষ্ট্রীয় এই চ্যানেলের প্রাঙ্গণে দেখা যায়নি। অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে সেই কালো অধ্যায়ের অবসান হলো। ২১ মার্চ, ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ একক সংগীতানুষ্ঠানের জন্য বিটিভি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায় এই কোকিলকণ্ঠী গায়িকাকে।
ঐতিহাসিক এক রাত, নজিরবিহীন সংগীত আয়োজন
সানন্দে আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন বেবী নাজনীন। শুধু ফেরা নয়, তৈরি করলেন ইতিহাসও! শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোররাত ৪টা পর্যন্ত একটানা রেকর্ড হলো ‘প্রিয়তম একটু শোনো’ শিরোনামের একক সংগীতানুষ্ঠান। এমন টানা রাত্রিকালীন শুটিং বিটিভিতে কবে হয়েছিল, তা মনে করতে পারলেন না কেউই! গানের তালিকায় ছিলো একের পর এক সুপারহিট: ‘দু চোখে ঘুম আসে না’, ‘কাল সারারাত’, ‘মধুচন্দ্রিমা এই রাতে’, ‘সারা বাংলায় খুঁজি তোমারে’, ‘দারুণও বরষায় নদী’, ‘বন্ধু তুমি কই’— প্রতিটি গানেই দর্শক-শ্রোতাদের মনে ঝড় তুলবেন বেবী নাজনীন।

ঈদ আনন্দে নান্দনিকতার ছোঁয়া
এ আয়োজনকে আরও রঙিন করতে তিনটি গানে কোরিওগ্রাফি সংযোজন করেন পরিচালক কবিরুল ইসলাম রতন। অনুষ্ঠানের নির্বাহী প্রযোজনায় ছিলেন আফরোজা সুলতানা। নিজে কেমন অনুভব করছেন, জানতে চাইলে শিল্পী বলেন, ‘দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমার শক্তি। ঈদকে স্মরণীয় করতে প্রিয় গানগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে এই অনুষ্ঠান। আশা করছি, সবাই উপভোগ করবেন।’

কালো তালিকা নিয়ে বেবী নাজনীন যা বললেন!
বিটিভিতে ফেরা শুধু এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নয়, বরং দুই দশকের জমানো অভিমান উগড়ে দেওয়ার উপলক্ষও। অতীতের কালো তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘বিটিভি শুধু একটা চ্যানেল নয়, এটি বহু শিল্পীর আঁতুড়ঘর। অথচ রাজনৈতিক কারণে গুণী শিল্পীদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল! জাতীয় গণমাধ্যমে গান গাইতে না পারার কষ্ট কতটা গ্লানিকর, তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। এখন আমি চাই, অতীতের এই অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি আর না হোক। প্রতিটি শিল্পীর স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ থাকা উচিত।’
বেবী নাজনীনের ঈদ মাতানো পরিকল্পনা!
শুধু বিটিভিই নয়, এবারের ঈদে আরও কয়েকটি জনপ্রিয় চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠানে থাকছেন তিনি। ইতোমধ্যেই অংশ নিয়েছেন জিটিভির ‘টাইমলাইন বাংলাদেশ’ ও একাত্তর টিভির জীবনীভিত্তিক অনুষ্ঠানে। খুব শিগগিরই দেখা যাবে যমুনা টিভির ‘যমুনার নিমন্ত্রণে’ অনুষ্ঠানে।
সংগীতের চার দশক, অগণিত ভালোবাসা
‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ ও ‘উত্তরবঙ্গের দোয়েল’ নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর ক্যারিয়ার চার দশকের বেশি সময়ের। ‘এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল’, ‘পত্রমিতা’, ‘আর কতদিন’, ‘লোকে বলে আমার ঘরে নাকি চাঁদ উঠেছে’— তার কণ্ঠের জাদুতে মোহিত আজও কোটি শ্রোতা। সংগীতের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা।

সংগীতের পাশাপাশি রাজনৈতিক মঞ্চেও সমান দক্ষ তিনি। বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। সংগীতে যেমন অপ্রতিদ্বন্দ্বী, রাজনীতিতেও তেমনি স্বতঃস্ফূর্ত।
অতীতের কালো অধ্যায় পেরিয়ে, এক নতুন ভোরে নতুন স্বপ্নে বেবী নাজনীন— তার কণ্ঠে ধ্বনিত হোক সংগীতের জয়ের সুর!