বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি টাকার দুর্নীতি, জানুন বিস্তারিত!
বেবিয়ারা খাতুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টাফ রিপোটার।
শিবগঞ্জের মসজিদ নির্মাণে বাধা, হাফিজিয়া মাদ্রাসার স্থলে নুরানী মাদ্রাসা চালু ও মাদ্রাসা ও পাঠাগারের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গত ০২ এপ্রিল ও গত ১৪ এপ্রিল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর আবেদনের পর কোন প্রতিকার না পাওয়ায় গত ২৪ এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবর আবারো আবেদন করেছে এলাকাবাসী।
গত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রায় একশো জন গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়—আলহাজ সিদ্দিক বিশ্বাসের দানকৃত রেজিস্ট্রিকৃত জমিতে মসজিদ নির্মাণের জন্য ২১ মার্চ এলাকাবাসী যখন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যান, তখন হঠাৎ মাদ্রাসার সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ঈশারুল হক দলবল নিয়ে গিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় বাধা দেন।
এরপর ২৬ মার্চ ফের বাধা দিয়ে জমি মাপার কথা বলেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে না এসে ২৯ মার্চ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাকিব উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানেই মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার রেশ না কাটতেই ৭ এপ্রিল মসজিদ কমিটির সদস্য ময়জুল ইসলাম নিজ বাড়ি ফিরার পথে ধোপপুকুর এলাকায় হামলার শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১০/১২ জন তার উপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘরও ভাঙচুর করে।
দাতাদের দেয়া জমিতে হাফিজিয়া মাদ্রাসা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেখানে কৌশলে চালু করা হয় নূরানী মাদ্রাসা। অভিযোগ রয়েছে, ১৫-১৬ বছর ধরে পাঠাগার ও তাফসির মাহফিলের দাতাদের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাধারণ সম্পাদক ঈশারুল হক ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে টয়লেট ও ঘর পরিষ্কার করানো, মারধর করা এবং ঘরে আটকে রাখার ঘটনাও উঠে এসেছে।
অভিযোগ আরও জানায়, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া বিগত ৬/৭ বছর ধরে অর্থের কোনো হিসাব দিচ্ছেন না, বরং প্রশ্ন করলেই গালাগালি ও হুমকি দেন।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জমি মাপ ছাড়া কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। পাঠাগারের অর্থ মাদ্রাসার তহবিলে যোগ করা হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আব্দুর রাকিবের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালেও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খলিলুর রহমান বলেন, ১৪ এপ্রিলের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজাহার আলি জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে ডাকা হয়েছিল, তবে সেদিন আলোচনা হয়নি। খুব শিগগিরই উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২ এপ্রিল ২০২৫-এ ৯২ জনের স্বাক্ষরসহ প্রথম আবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার এক মাস পরও প্রতিকার না পাওয়ায় পুনরায় জেলা প্রশাসকের কাছে দ্বিতীয়বার আবেদন করা হয়।