বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
উৎসবের ভোরে গঙ্গা দেবীর পুজা, আর লাল ব্যানারে সাংবাদিকদের নিষেধ!
খাগড়াছড়ি, জেলা প্রতিনিধি
লাল ব্যানারে ‘No Journalist, No Photography’, ‘বায়াসড মিডিয়া, বায়াসড সাংবাদিক’। আজ সকালের দিকে ফুল বিজুর সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা এমনই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন খাগড়াছড়িতে।
পুরানো বছরের দুঃখ-জরা ভুলে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে চলছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’। আজ ১২ এপ্রিল ভোরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার চাকমা জনগোষ্ঠী ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে শুরু করে নিজ সম্প্রদায়ের বিজু উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। নদীতে ফুল ভাসিয়ে পুজা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এই দিনটিকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’।
রীতি অনুযায়ী চৈত্র মাসের ২৯ তারিখ ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এই আয়োজন। এ জন্য ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই চেঙ্গী নদীর তীরে জড়ো হন চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন । নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বন থেকে সংগ্রহ করা বিজু, মাধবীলতা, রঙ্গনসহ নানা রকমের ফুল নদীতে ভাসিয়ে গঙ্গা দেবী ও উপগুপ্ত বুদ্ধের পুজা করেন চাকমা তরুণ–তরুণীরা। পরে নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দ্যেশ্যে করা হয় প্রার্থনা।
অন্যান্য বছরের মতো যথারীতি খাগড়াছড়ি সদরের চেঙ্গী নদীর খবংপুড়িয়া অংশে সংবাদ সংগ্রহে যায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের বাধা দেয় স্থানীয় চাকমা যুবকরা। আগে থেকেই সেখানে লাগিয়ে রাখা হয় লাল ব্যানার যাতে লিখা ছিলো No Journalist, No Photography’, ‘বায়াসড মিডিয়া, বায়াসড সাংবাদিক’। একটি ব্যানারে লিখা ছিলো : “দুঃখের সময় পাশে নাই, সুখের বেলায় আছি ভাই” ; এসব বায়াসড কভারেজে আমরা থুথু দিতে চাই ; Journalists not allowed “.
কোনো কারণ ছাড়াই গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণে প্রচন্ড বিব্রত বোধ করেন উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতারা। খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘পার্বত্য তিন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা যে কোনো সম্প্রদায়ের উৎসব আয়োজন কিংবা সুখে দুঃখে সমানভাবে অংশীজন হিসেবে থাকেন। তবে কোনো কারণ ছাড়াই অহেতুক সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সাংবাদিকদের উসকে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।