শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
খাজনার নামে গরু বিক্রেতাদের জিম্মি, মাঠে নামল প্রশাসন!
আনোয়ার হোসেন রানা – গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভরতখালী গরুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ মে ২০২৫) ভিন্নমাত্রার এক অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এই যৌথ অভিযান হাটের চিত্রই যেন পাল্টে দেয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর মোহাম্মদ আল কামাহ্ তমাল।
অভিযানের সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বাদশা আলম, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আসিব, ওয়ারেন্ট অফিসার নুরুল নবী, এসআই উজ্জ্বল এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গরুর হাটে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে গৃহীত হয় দৃঢ় আইনানুগ ব্যবস্থা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, ভরতখালী গরুর হাটে নিয়মিতভাবেই গরু বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা করে আদায় করে আসছিলেন ইজারাদাররা, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া হাটে খাজনার নির্ধারিত তালিকা টাঙানো হয়নি, ফলে বিক্রেতারা জানতেই পারেন না কত টাকা খাজনা আদায় করা বৈধ। এই অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পর ইজারাদার নজরুল ইসলামকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯–এর ৩৮ ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এছাড়াও, ম্যাজিস্ট্রেট স্পষ্ট ভাষায় ইজারাদারদের নির্দেশ দেন, হাটে অনুমোদিত টোলের তালিকা অবশ্যই জনসাধারণের দৃষ্টিগোচরে এমন স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করলে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, এই অভিযান এক ধরনের সতর্কবার্তা—যে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের পকেটে হাত দিলে, এবার আর তা মসলা মাখিয়ে চাপা দেওয়া যাবে না। এলাকাবাসী এ ধরনের সাহসী অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।