রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন
গাণিতিক নিয়ম মেনে হাঙরের শরীরে অক্সিজেন প্রবাহ? শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তব
অনলাইন ডেস্ক
জীবজগৎ যেন এক রহস্যময় গণিতের খেলা, আর সেই খেলায় হাঙররা যেন শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়! সর্বশেষ এক গবেষণায় এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা। বিশাল আকার ও জটিল শরীরের গঠনের মধ্যেও কীভাবে হাঙরের শরীরে অক্সিজেন, তাপ ও পুষ্টি নিখুঁতভাবে পৌঁছে যায়, তার পেছনে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন একটি গাণিতিক নিয়ম—‘টু-থার্ড স্কেলিং ল’।
এখনো অনুসরণ করে শতবর্ষ পুরোনো নিয়ম!
‘টু-থার্ড স্কেলিং ল’ বা দুই-তৃতীয়াংশ স্কেলিং নিয়ম অনুসারে, কোনো বস্তু যখন বড় হয়, তার পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বাড়ে দৈর্ঘ্যের বর্গের হারে, কিন্তু আয়তন বাড়ে ঘনকের হারে। হাঙরের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ক্রিয়াগুলো ঘটে মূলত পৃষ্ঠে—ফুলকায় অক্সিজেন গ্রহণ, ত্বক দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। তাই আয়তনের তুলনায় পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হয়, সেটা সরাসরি প্রভাব ফেলে হাঙরের বেঁচে থাকার উপরে।
বিজ্ঞানীরা যা খুঁজে পেয়েছেন
অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা উচ্চ রেজল্যুশনের থ্রিডি স্ক্যান ও সফটওয়্যার টুল “Blender” ব্যবহার করে হাঙরের শরীর ডিজিটালভাবে বিশ্লেষণ করেন। তাঁরা ৫৪টি ভিন্ন প্রজাতির হাঙরের পৃষ্ঠ ও আয়তন নির্ধারণ করেন এবং দেখেন, প্রজাতিগুলোর বড় অংশই এই গাণিতিক নিয়ম হুবহু অনুসরণ করে চলছে।
ছোট হাঙর থেকে বিশাল তিমি হাঙর পর্যন্ত
গবেষণাটি কেবল ছোট বামন ল্যান্টার্ন হাঙরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং প্রায় ২০ মিটারের তিমি হাঙর পর্যন্ত প্রসারিত ছিল গবেষণার আওতা। গবেষণার নেতৃত্বে থাকা বিজ্ঞানী জোডি এল রামার জানান, “বড় হোক ছোট, সব হাঙরের ক্ষেত্রেই গাণিতিক অনুপাত ঠিকঠাক কাজ করছে। এটা যেন জীববিজ্ঞানের এক মিরাকল।”
কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ?
এই গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো বৃহৎ সামুদ্রিক প্রাণীর বায়োলজিক্যাল কার্যক্রমের পেছনের গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করা হলো। শুধু কোষ বা পোকামাকড় নয়, হাঙরের মতো বড় প্রাণীও গণিত মেনে চলে—এ যেন প্রকৃতির এক নিখুঁত পরিকল্পনা।
চূড়ান্ত উপলব্ধি
এই গবেষণা প্রমাণ করে, প্রকৃতি নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে কখনোই কাকতালীয়ভাবে কিছু করে না। বিজ্ঞান, গণিত ও জীববিদ্যার দুর্দান্ত সমন্বয়ে গড়া এই জগতে হাঙরের মতো বিশাল প্রাণীও নিজের বেঁচে থাকার পেছনে অনুসরণ করে নিখুঁত গাণিতিক নিয়ম।
সূত্র: এনডিটিভি, রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স