বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
রিভলভার দিয়ে মেরে ফেলুন—আদালতে সিইসির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি!
অনলাইন ডেস্ক
ইউনিক ও জুসি পুনর্লিখিত প্রতিবেদন (একই শব্দসংখ্যা বজায় রেখে, “কালবেলা” পরিবর্তে “গণমাধ্যম”): রিমান্ড শুনানিতে নিজের বক্তব্য রাখতে না দেওয়ায় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকীর দিকে ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমাকে জাস্টিফাই করতে না দিলে রিভলভার দিয়ে গুলি করে মারুন।’
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর দেড়টায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে কাজী হাবিবুল আদালতে বলেন, ‘মাননীয় বিচারক, আপনি ন্যায়বিচার করুন। আমি মেনে নিচ্ছি, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। এসব সব সময় বিতর্কিত। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন বলুন, কোন নির্বাচন বিতর্কমুক্ত ছিল? স্বাধীনতার পর ’৭২ সালে সংবিধান পাস হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই ’৭৩ সালে নির্বাচন হয়, যাতে আ.লীগ পায় ২৯৩টি আসন। সেই নির্বাচনও সুষ্ঠু ছিল না। মানুষের নমিনেশন আটকে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতার মোহ এতটাই ছিল, এমনকি শেখ মুজিবও সেটা রোধ করতে পারেননি। ’৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ, পরে তারাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য সংবিধান বদলায়।’ এরপর হাবিবুল বলেন, ‘এক হাজার বছরেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, যদি মৌলিক সংস্কার না হয়।’ তখন বিচারক বলেন, ‘আপনি তো সংবিধানের শপথ নিয়েছিলেন। আপনি কি মনে করেন নির্বাচন ছিল প্রহসন?’ জবাবে হাবিবুল বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি মনে করি এটি ছিল প্রহসন। তবে সেটা আমার দায় নয়। তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই এমন ছিল।’
বিচারক তখন প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে আপনি পদত্যাগ করেননি কেন?’ জবাবে হাবিবুল বলেন, ‘তখন পদত্যাগের পরিস্থিতি ছিল না।’
২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে হাবিবুল বলেন, ‘রাতের বেলায় ভোট হয় (একাদশ জাতীয় সংসদ), আমি দায়িত্বে থাকলেও সেদিন ঘুমিয়ে ছিলাম। দুই দিন পর জানতে পারি রাতে ভোট হয়ে গেছে। আমি কিছুই জানতাম না।’
এ সময় পিপি ওমর ফারুক বলেন, ‘নিজেকে সাধু সাজিয়ে অন্যের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আপনি কি করেছেন, সেটাই বলুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসামি হিসেবে এত কথা বলার সুযোগ নেই।’ তখন হাবিবুল বলেন, ‘জাস্টিফাই করতে না দিলে একটা রিভলভার দিয়ে মেরে ফেলুন।’
এরপর উপস্থিত আইনজীবীদের চিৎকারে আদালত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৩ জুন নুরুল হুদার চার দিনের রিমান্ড হয়। এরপর বুধবার মগবাজার থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।