শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন অধ্যায় শুরু, আশরাফুল হক সভাপতি হচ্ছেন!
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট বিপ্লবের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি পদ নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। দেশের ক্রিকেটের নানা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাত এই ব্যক্তির নামই উঠছিল শীর্ষে—সৈয়দ আশরাফুল হক। তার ক্রিকেটীয় জ্ঞান আর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও তাকে পছন্দের তালিকায় রাখেন, এখনো রেখেছেন। কিন্তু অজানা কারণে প্রথম দফায় তিনি সভাপতির আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারেননি। পরিবর্তে এই দায়িত্ব দেওয়া হয় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদকে।
অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়ায় মাত্র নয় মাস না পেরোতেই ফারুক আহমেদকে সরিয়ে বিসিবির শীর্ষ পদে বসানো হলো আরেক জাতীয় অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বুলবুল জানিয়ে দেন, দীর্ঘ মেয়াদ নয়, স্বল্প মেয়াদের জন্যই কাজ করতে পারবেন তিনি। নির্বাচনের আয়োজন করবেন, কিন্তু নিজে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। এরপরেই আবার ফিরে যাবেন আইসিসি এশিয়ার উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে তার পুরনো পদে।
বুলবুলের এই ঘোষণা ফের আলোচনায় নিয়ে এসেছে সৈয়দ আশরাফুল হকের নাম। জানা গেছে, বিসিবি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে এখন তার আশপাশে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য পূরণে সামনে রাখা হয়েছে ক্রিকেট পাড়ার পরীক্ষিত লোক তথা আশরাফুল হকের ঘনিষ্ঠ আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে।
গণমাধ্যমের কাছে কথা বলেছিলেন সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির সভাপতি পদ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে। কোনো ছলছুদ বা কৌশল না নিয়ে সরাসরি বললেন, ‘কেন না? আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সুযোগ পেলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব। সুযোগ চাই।’
যদিও দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ঘরোয়া ক্রিকেটে জড়িত নন তিনি, বর্তমান ক্রিকেটীয় মহলের সঙ্গে সম্পর্ক কমে গেছে—এসব নিয়েও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন, ‘সম্প্রতি আমার ক্রিকেট সংযোগ আরও বাড়ছে। ভাবছি, বিসিবির দায়িত্ব পেলে অনেক কিছু করা সম্ভব হবে। অভিজ্ঞতাও তো আছে। আমি তো বাইরের কেউ নই।’
সৈয়দ আশরাফুল হক যিনি একদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে এক ম্যাচে সাত উইকেট তুলে নিয়েছিলেন, জাতীয় দলে খেলেছেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নানা পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৮ সালের ঢাকা মিনি বিশ্বকাপ ও ১৯৯৯ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ, টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনে অবদানসহ বিসিবির সুনামের পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল। যদিও অনেক সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বর্তমান অবস্থানের জন্য তাকে সবার আগে মনে করা হয়। আইসিসির ডেভেলপমেন্ট কাজেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক দিনে দেশের ক্রিকেটে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার সব খবর তার জানা আছে বলেই জানালেন। ‘যা হচ্ছে, তাতে আইসিসির কোনও ভূমিকা নেই,’ যোগ করলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও সাফল্য কামনা করে বললেন, ‘আমার জীবনটাই ক্রিকেট নিয়ে। এর বাইরে অন্য কিছু করিনি কখনো। শেষ বয়সটাও ক্রিকেট নিয়ে কাটাতে চাই। বিশ্বাস করি, দেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করতে পারব। এখন শুধু সুযোগের অপেক্ষায় আছি। সুযোগ পেলে নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করব।’