রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ধারাবাহিক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। এই নতুন সহিংস পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান শান্তি আলোচনাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
Switzerland, Pakistan, Qatar, United States, Iran
তবে শুক্রবার কার্যকর হওয়া নতুন যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরান মনে করছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকাই কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, যা আলোচনার ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া জাতীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানায়, কফর রেমান গ্রামে এক হামলায় একজন লেবানিজ সেনা নিহত হন।
Lebanon
টাইর জেলায় একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। বারিশ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের চারজন নিহত হন। পশ্চিম বেকা অঞ্চলের সোহমর এলাকায় আরেক হামলায় আরও চারজন নিহত ও একজন আহত হন।
সাইদা জেলার কানারিত এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য জরুরি কেন্দ্র।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলি হামলায় ৮৩ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা।
আল জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেট জানান, শনিবার মধ্যরাতের পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে শতাধিক বিমান হামলা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু বেসামরিক নাগরিক এই হামলার শিকার হয়েছেন এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর।
তিনি আরও জানান, লেবানিজ সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও লক্ষ্য করা হয়েছে। মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় একজন সেনা নিহত হন, যা সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে নতুন সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন।
বৈরুত থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক রব ম্যাকব্রাইড বলেন, যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং পুরো আলোচনাপ্রক্রিয়া লেবাননের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা অনুযায়ী, লেবাননে সংঘাত বন্ধ করা বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
লেবানিজ সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টা ব্যাহত করতেই ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সংসদ সদস্য নাজাত আউন সালিবা বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও ধ্বংসে ক্লান্ত।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ এলাকায় অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
Hezbollah
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে সেনাদের লক্ষ্য করে ৫০টির বেশি রকেট ও প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে, যা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।