বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
জমি নিয়ে সংঘর্ষ, উত্তপ্ত তুলাতলী এলাকা!
অনলাইন ডেস্ক
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রূপ নিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে, যাতে অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে কুয়াকাটার তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে বাদশা ফরাজীর বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে বাদশা ফরাজীর পরিবারের সদস্যরা তাদের দাবি করা জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষ কুদ্দুস ফরাজীর নেতৃত্বে প্রায় ১৫-২০ জনের একটি দল সেখানে হাজির হয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, ফলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ ঘটনায় বাদশা ফরাজী (৫০), বাদল ফরাজী (৫০), বকুল বেগম (৪৫), রাসেল (১৯), মানসুরা (৫০), কোহিনুর বেগম (৪০) ও মিলন (২২) গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে, কুদ্দুস ফরাজীর পক্ষের রুহুল আমিন (৩২), ইয়াকুব (৩৪) ও লাইলী বেগম (৫০) আহত হয়েছেন।
আহতদের প্রাথমিকভাবে কুয়াকাটার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ জানান, বেশ কয়েকজনের মাথা, বুক ও হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে, তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, বাদশা ফরাজী ও কুদ্দুস ফরাজীর পরিবারের মধ্যে বহুদিন ধরেই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বাদশা ফরাজীর অভিযোগ, ৫ মে রাতে তাদের দুটি বসতঘর ভেঙে দেয় কুদ্দুস ফরাজীর লোকজন। এরপর ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে অবশেষে তারা আবার নতুন করে ঘর তুলতে শুরু করেন। কিন্তু তখনই নতুন হামলার শিকার হন তারা।
অন্যদিকে কুদ্দুস ফরাজী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি জাল দলিল দেখিয়ে বাদশা ফরাজীর লোকজন তার জমিতে অবৈধভাবে ঘর তুলেছিল। তিনি বলেন, “আমরা পৌর বিএনপির সভাপতির কাছে কাগজপত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু প্রতিপক্ষ কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। আজ সকালে জানতে পারি তারা আবারো আমার জমিতে ঘর তুলছে। আমি সেখানে গেলে ওরা আমার উপর হামলা চালায়, তখন আমাদের তিনজন আহত হয়। পরে আমরা প্রতিরোধ করলে ওদেরও কয়েকজন আহত হয়।”
সংঘর্ষের খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে মহিপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকায় এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এখনও বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি এতটা ঘোলাটে হয়েছে যে এখন প্রায়ই ছোটখাটো বিরোধ বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া এই উত্তেজনা সহজে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সবাই।