সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
‘আপনার মোবাইল ব্যাংক অ্যাপ আসল তো? না ছদ্মবেশী গডফাদার?’
গোপনে আপনার ব্যাংক অ্যাপ নকল করে অর্থ চুরি করছে এক ভয়ংকর ম্যালওয়্যার!
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা সাবধান! স্মার্টফোনে ব্যাংকিং করতে গিয়ে আপনি হয়তো নিজের অর্থ নিজেই তুলে দিচ্ছেন সাইবার অপরাধীদের হাতে। কারণ, ‘গডফাদার’ নামের ভয়ংকর এক ম্যালওয়্যার আবারও সক্রিয় হয়েছে, যার কাজই হলো আপনার মোবাইলের ভেতরে এক নিখুঁত জালিয়াতি তৈরি করে সবকিছু হাতিয়ে নেওয়া। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন—এই গডফাদার আপনার ফোনে তৈরি করছে ভুয়া ব্যাংকিং অ্যাপ, যেটি দেখতে হবে একদম আসল অ্যাপের মতো। অথচ আপনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপনার লগইন আইডি, পাসওয়ার্ড, এমনকি টাকাও পৌঁছে যাচ্ছে হ্যাকারদের হাতে।
গবেষণা সংস্থা জিমপেরিয়াম এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গডফাদার ম্যালওয়্যারের সর্বশেষ সংস্করণ আগের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ংকর। এতে যুক্ত হয়েছে ওপেন সোর্স প্রযুক্তি—‘VirtualApp’ ও ‘Xposed Framework’। এই দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ম্যালওয়্যারটি আপনার ফোনে তৈরি করে এক ভার্চ্যুয়াল অ্যাপ-জগৎ, যেখানে আপনি যা দেখছেন, সবই আসলে মিথ্যে! আপনি ভাবছেন আপনি আপনার নিজ ব্যাংকের অ্যাপে ঢুকেছেন, অথচ সেটা নিছকই গডফাদার তৈরি একটি ছদ্ম ইন্টারফেস। আপনার প্রতিটি ক্লিক, প্রতিটি টাইপ করা তথ্য সরাসরি চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের কাছে।
গডফাদার এখানেই থেমে থাকছে না। এটি আপনার সম্মতি ছাড়াই লেনদেন করতে পারে। অনেক সময় ফোনের স্ক্রিনে দেখায় “অ্যাপ আপডেট হচ্ছে” বা “লোডিং…” বার্তা। কিন্তু এই সময়েই ম্যালওয়্যারটি আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তর করে ফেলছে নির্দিষ্ট একটি ঠিকানায়—সবই আপনি না জেনেই। এমনকি আপনার ফোনের লক স্ক্রিনও নকল করে এই ম্যালওয়্যার বিভ্রান্ত করতে পারে আপনাকে।
প্রথম গডফাদার শনাক্ত হয়েছিল ২০২১ সালের মার্চে। তখন এটি শুধুই HTML ভিত্তিক ভুয়া স্ক্রিন ব্যবহার করত তথ্য চুরির জন্য। কিন্তু ২০২২ সালে গ্রুপ আইবি নামের একটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জানায়, সে সময় গডফাদার অন্তত ১৬টি দেশের ৪০০টি ব্যাংকিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাপকে নিশানা করেছিল। বর্তমান ভার্সনে আরও ভয়ংকর হয়েছে গডফাদার—কারণ, এখন এটি আসল অ্যাপের হুবহু নকল ভার্চ্যুয়াল সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ম্যালওয়্যার মূলত অ্যাপের ওপর নির্ভর করে নয়, ফোন ব্যবহারকারীর অসতর্কতার সুযোগ নেয়। আপনি যদি নিরাপত্তা ছাড়া তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ইনস্টল করেন, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করেন বা অবাঞ্ছিত অনুমতি দেন—তাহলেই আপনি হতে পারেন গডফাদারের পরবর্তী শিকার।
আপনার নিরাপত্তার জন্য করণীয় কিছু পরামর্শঃ
গডফাদার নাম শুনলেই মনে পড়ে মার্লন ব্র্যান্ডোর সেই ঐতিহাসিক চরিত্র, কিন্তু এই গডফাদার কোনো সিনেমার চরিত্র নয়—এ এক প্রযুক্তি-রাক্ষস, যার চোখ আপনার পকেটে থাকা প্রতিটি টাকার দিকে।
সূত্র: Bleeping Computer & Zimperium Reports