বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
জুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ হবে ১০ জুলাই!
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেননি শেখ হাসিনা, এটি বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
সোমবার (৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অভিযোগ গঠনের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল।
সে দিন শেখ হাসিনার অব্যাহতি চেয়ে আদালতে জোরালো শুনানি করেন স্টেট ডিফেন্সের এই আইনজীবী।
আদালতকে তিনি বলেন, ‘আসামিরা নির্দোষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি প্রসিকিউশনও প্রমাণ হাজিরে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং আসামিরা অব্যাহতি পাওয়ার ন্যায্য অধিকার রাখে।’
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১০ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
গত ১৬ জুন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির করতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত এবং ২৪ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়।
পরদিন ১৭ জুন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে তারা হাজির না হলে অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে বলে জানানো হয়।
মামলার আরেক আসামি সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল।
অন্য দুই আসামি হলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী মামুন। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
সেদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার ও মিজানুল ইসলাম তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে পড়ে শোনান, যা সকল গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
গত ১২ মে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।
সেই প্রতিবেদনে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ রয়েছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন।
সেদিন আদালতে অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম শুনানি করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষের নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো, হত্যার নির্দেশ ও পরিকল্পনার জন্য শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার অমানবিক হত্যা অভিযান চালায় বলে অভিযোগ, যেখানে প্রাণ হারায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ।