মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
গণহত্যার বিচার শুরু, ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার মুহূর্ত!
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
রোববার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
সকাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে পতিত হয় শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসন। ১৪ আগস্ট তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল হয়। অভিযোগ তদন্ত শুরু হয় ১৪ অক্টোবর এবং ছয় মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিচারে গণহত্যা চালায়, যার ফলশ্রুতিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। আন্দোলনের মধ্যেই ৫ আগস্ট শেষ হয় শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামল। এরপর শান্তিপূর্ণ অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যারা জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার করার সিদ্ধান্ত নেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করেন। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা দায়ের হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে এ মামলায় আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইজিপি থাকাকালীন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়।