বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির লটারিতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আরাফাত হোসেন নামে এক ছেলে শিক্ষার্থীর নাম একটি বালিকা বিদ্যালয়ের তালিকায় উঠে এসেছে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে, ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। কুমিল্লা শহরের নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের লটারির ফলাফলে এমন অস্বাভাবিক ঘটনা দেখা গেছে।
তবে শিক্ষা প্রশাসন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীর অভিভাবকের ভুলেই এই ঘটনা ঘটেছে। তারা ফরম পূরণের সময় ভুলবশত এই বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ওই শিক্ষার্থীর বাবা দাবি করেছেন, তাদের পছন্দের তালিকায় কোনো বালিকা বিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রকাশিত লটারির ফলাফলে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রভাতি শিফটে মোট ১১০ জন শিক্ষার্থীর নাম আসে। এর মধ্যে ৪১ নম্বরে রয়েছে আরাফাত হোসেন নামের ওই শিক্ষার্থীর নাম, যে স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি সম্পন্ন করেছে।
আরাফাতের বাবা আবুল কালাম বলেন, “মেয়েদের বিদ্যালয়ের তালিকায় আমার ছেলের নাম কীভাবে এসেছে, তা আমার বোধগম্য নয়। আমরা আবেদন করার সময় কুমিল্লা জিলা স্কুল, কুমিল্লা হাইস্কুল এবং কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম দিয়েছি। আমাদের ছেলের নাম কুমিল্লা হাইস্কুলের তালিকাতেও এসেছে। আমরা তাকে সেখানেই ভর্তি করাব।”
নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের লটারিতে একজন ছেলে শিক্ষার্থীর নাম এসেছে। এটি অভিভাবকদের অসাবধানতার কারণে হয়েছে। তবে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ছেলেদের ভর্তি সম্ভব নয়। তাই ওই শিক্ষার্থীর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন ৬৮০টি সরকারি ও ৩,১৯৮টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ১২ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ভর্তি আবেদন চলেছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য ৬৮০টি সরকারি বিদ্যালয়ে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৭১৬টি শূন্য আসনের বিপরীতে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৭২টি আবেদন জমা পড়ে।
অন্যদিকে, ৩,১৯৮টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে ১০ লাখ ৭ হাজার ৬৭৩টি শূন্য আসনের বিপরীতে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৭টি আবেদন জমা হয়। ভর্তির জন্য এই আবেদনগুলো ডিজিটাল লটারি পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়েছে। লটারির ফলাফল পাওয়া যাবে https://gsa.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট এবং টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে। এসএমএস এর জন্য “GSA ResultUser ID” লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নাম্বারে।
গত ১২ নভেম্বর শুরু হওয়া এই আবেদন কার্যক্রম ৩০ নভেম্বর বিকেল ৫টায় শেষ হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল লটারির বাইরে অন্য কোনো পদ্ধতিতে ভর্তি করা যাবে না। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয় ১১০ টাকা।