মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
৩০ জুনের আগেই বিনিয়োগ না করলে করছাড় হাতছাড়া—সাবধান
অনলাইন ডেস্ক
কর কমাতে হলে এবার সময় কম—৩০ জুনের মধ্যে বুদ্ধিমানের মতো বিনিয়োগ করলেই পাওয়া যাবে কর রেয়াতের সুবিধা। নতুন করবর্ষ (২০২৫–২৬) শুরুর আগে শেষ মুহূর্তের এই করছাড়ের সুযোগ লুফে না নিলে পরে আফসোস করার সুযোগও থাকবে না, কারণ ২০২৬–২৭ করবর্ষ থেকে আর থাকছে না বহু প্রতীক্ষিত ৫ শতাংশ রেয়াতের সুযোগ।
চলুন একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝি—মাহবুব নামের একজন বেতনভুক্ত চাকরিজীবী বছরে বেতন পান ১৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থেকে দুই লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে এক লাখ টাকা সুদ পান। এই সব আয়ের বিবরণ মিলিয়ে দেখা যায়, মাহবুবের মোট আয় দাঁড়ায় ১৮ লাখ টাকা। বর্তমান করবর্ষে (২০২৪–২৫) করমুক্ত আয়ের সীমা ছিল সাড়ে ৪ লাখ টাকা, তাই করযোগ্য আয় ছিল সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। তবে ২০২৫–২৬ করবর্ষে করমুক্ত সীমা বেড়ে ৫ লাখ হওয়ায় করযোগ্য আয় কিছুটা কমে দাঁড়াবে ১৩ লাখ টাকা।
তবে এবার আসল কথা: কর ছাড়ের এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইলে মাহবুবকে কমপক্ষে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে অনুমোদিত কর রেয়াতযোগ্য খাতে। না হলে তিনি রেয়াত সুবিধা পাবেন না এবং বেশি কর দিতে হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ৩০ জুনের আগেই এই বিনিয়োগ করতে হবে—একদিন দেরি হলেও রেয়াত আর মিলবে না।
কোথায় করবেন এই বিনিয়োগ? পছন্দের তালিকায় আছে সরকারি সিকিউরিটিজ (সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বিল), জীবন বিমা প্রিমিয়াম, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক মার্কেটের তালিকাভুক্ত শেয়ার, এমনকি ইউনিট ফান্ডেও বিনিয়োগ করা যায়।
আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, এই বিনিয়োগে আপনার টাকা যেমন নিরাপদ থাকবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়ের সুবিধাও মিলবে। ফলে আপনি একদিকে কর রেয়াত পাচ্ছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করছেন।
বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ২০২৬–২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ করহার আর দাবি করতে পারবেন না। কারণ, তখন করহারের কাঠামো পরিবর্তিত হবে এবং নতুন অর্থ আইন অনুযায়ী রেয়াতের শর্তাবলী বদলে যাবে। ফলে এ বছরই শেষ সুযোগ সেই অতিরিক্ত ছাড় আদায়ের।
করপরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলছেন, ‘কর ছাড় শুধু মাত্র আইন জানা লোকদের জন্য নয়—যদি সময়মতো বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে সবাই এর সুবিধা পেতে পারে। এটাই সঠিক পরিকল্পনার সময়।’
সুতরাং যারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি, তাঁদের জন্য বার্তা স্পষ্ট—তথ্য জানুন, বিনিয়োগ করুন এবং কর বাঁচান। আর তা অবশ্যই ৩০ জুনের মধ্যে। সময় হাতে কম, কিন্তু সুফল অনেক।