শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সম্পত্তি লিখে না দেওয়ার কারণে বৃদ্ধ বাবার মরদেহ দাফন ছাড়াই বাড়ির উঠানে কয়েক ঘণ্টা ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে সন্তানের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যস্থতায় মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়নের কিশামত বীচচরণ মিস্ত্রিপাড়া এলাকায়।
জানা যায়, এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই বৃদ্ধ, আবু মোতালেব (৬৫)। তিনি মিস্ত্রিপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
পরিবার ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, আবু মোতালেব তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে রেখে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন এবং তাঁদের কোনো খোঁজখবর বা ভরণপোষণ দেননি। দীর্ঘ সময় দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেই কাটান। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাঁর প্রথম স্ত্রীর দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পরও তিনি তাঁদের দেখভাল করেননি। ফলে তাঁর প্রথম স্ত্রী মানবেতর জীবনযাপন করেন।
মোতালেবের মৃত্যুর পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য বাড়িতে আনা হয়। এ সময় তাঁর প্রথম স্ত্রীর দুই মেয়ে তাঁদের সম্পত্তির অধিকার দাবি করে মরদেহ দাফনে বাধা দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলে রাত আটটার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।
মোতালেবের শ্যালক বেলাল মুন্সি জানান, ‘আমার দুলাভাই জীবদ্দশায় দুটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী, অর্থাৎ আমার বোনকে কিছু না দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে সব সম্পত্তি লিখে দেন। এখন মৃত ব্যক্তির ভাইয়েরা দায়িত্ব নিয়েছেন যাতে প্রথম স্ত্রীর দেনমোহর এবং সম্পত্তির অংশ দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে মেয়েদের নামে লিখে দেওয়া হয়।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মজনু মিয়া (মধু) জানান, মোতালেবের মৃত্যুর পরদিন স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।