মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
মৃত্যু নয়, নিজের মতো করে বাঁচাটাই সত্যিকারের সাহস
অনলাইন ডেস্ক
আত্মহত্যা মানেই নিজেকে নিজেই ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া। নিজের আত্মাকে চরম যন্ত্রণার শিকারে পরিণত করা। নিজ হাতে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের অকাল ইতি টেনে দেওয়ার নামই আত্মহত্যা। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি এক ভয়াবহ, নিষিদ্ধ ও গুরুতর পাপ—যা মানুষের আখিরাতকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
মহান আল্লাহ মানুষকে মরণশীল করে সৃষ্টি করেছেন এবং নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু ঘটাবেন। কিন্তু আত্মহত্যা করার মানে হলো আল্লাহর দেওয়া সময় ও সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করে নিজের হাতে নিজের প্রাণনাশ করা। আর এজন্য আত্মহত্যা ইসলামে ঘৃণিত ও জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন,
তোমরা আত্মহত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯)
প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আত্মহত্যাকারীর জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বর্ণনা দিয়েছেন,
যে ব্যক্তি পাহাড়ের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে বিষ তার হাতে থাকবে, সে বিষ বারবার সে পান করতে থাকবে। আর কষ্ট পেতেই থাকবে। চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে, যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের মধ্যে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তার মাধ্যমে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে। (বুখারি: ৫৪৪২; নাসায়ি: ১৯৬৪)
বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন,
যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নাম (অনুরূপভাবে) বর্শায় বিঁধতে থাকবে। (বুখারি: ১৩৬৫)
হজরত আনাস (রা.)-এর সূত্রে একটি হাদিসে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
তোমাদের কেউ যেন কোনো বিপদে পতিত হয়ে মৃত্যু কামনা না করে। মৃত্যু যদি তাকে প্রত্যাশা করতেই হয় তবে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ, আমাকে সে অবধি জীবিত রাখুন, যতক্ষণ আমার জীবনটা হয় আমার জন্য কল্যাণকর। আর আমাকে তখনই মৃত্যু দিন যখন মৃত্যুই হয় আমার জন্য শ্রেয়।’ (বুখারি, হাদিস: ৫,৬৭১)
আত্মহত্যা কখনোই সমস্যার সমাধান হতে পারে না। বরং এটি জীবনের কষ্টকে অনন্ত শাস্তিতে রূপ দেয়। যারা চরম হতাশায় নিমজ্জিত, তারাও প্রতিদিন বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে। একজন মানুষ যত চেষ্টা করুক না কেন, সে কখনো অন্য কারও মতো হতে পারবে না। তাই শ্রেষ্ঠ পথ হলো—নিজেকে খুঁজে পাওয়া, নিজের মতো করে জীবনকে গড়ে তোলা। মানসিক প্রশান্তি অর্জন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চাই আত্মহত্যার চিন্তা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখতে পারে।