সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
বর্তমান সময়ে অ্যালার্জি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত প্রায় সবারই কোনো না কোনো পর্যায়ে অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগতে হয়। বিশেষ করে গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ বা নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার পর ত্বকে র্যাশ বা চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। ওষুধের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক খাবার রয়েছে, যা অ্যালার্জি কমাতে সহায়ক হতে পারে। আসুন, এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নিই।
লেবু হলো ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ একটি ফল, যা অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে লেবুর কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করলে শরীরের অ্যালার্জি সমস্যা অনেকটাই কমে আসে।
কলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা দেহের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সহায়তা করে। কোনো অ্যালার্জিজনিত খাবার খেয়ে ত্বকে চুলকানি দেখা দিলে একটি কলা খেলে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। তবে এটি অ্যালার্জি পুরোপুরি নিরাময় করে না, বরং সাময়িক উপশম দেয়।
গাজর অ্যালার্জি প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী একটি সবজি। এতে থাকা ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে অ্যালার্জির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। যেকোনো খাবার খেয়ে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিলে গাজরের রস খাওয়া যেতে পারে।
আদায় রয়েছে প্রদাহবিরোধী এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, যা অ্যালার্জিজনিত উপসর্গ কমাতে সহায়তা করে। আদা চা অথবা আদার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
গ্রিন টি শুধু ওজন কমাতেই নয়, অ্যালার্জি প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি হিস্টামিন উপাদান শরীরকে বিষাক্ত উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন এক বা দুই কাপ গ্রিন টি পান করলে অ্যালার্জির সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা উচিত। পাশাপাশি অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার থেকে বিরত থাকা জরুরি। উপরোক্ত খাবারগুলো আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।