শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
ঘ্রাণেই গলে যাবে মন! কালিজিরা ফোড়নে বাটা মাছের ঘরোয়া জাদু
অনলাইন ডেস্ক
বাঙালির হেঁশেলে বাটা মাছের অবস্থান অনেকটাই আবেগের মতো। নদী কিংবা পুকুরের টাটকা বাটা মাছ, পাশে সাদা ধোঁয়া ওঠা ভাত আর একপাটি লেবুর টুকরো—এই সামান্য আয়োজনেই লুকিয়ে আছে নিখাদ সুখ। কিন্তু এবার আমরা নিয়ে এসেছি একদম ঘরোয়া স্টাইলে তৈরি কালিজিরা ফোড়নে বাটা মাছের ঝোল, যা আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে দাদির রান্নাঘরের স্মৃতিতে।
এই রেসিপি শুধু স্বাদের দিক থেকেই নয়, ঘ্রাণ, রঙ এবং মশলার ভারসাম্যের দিক থেকেও অসাধারণ। আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি সহজলভ্য উপকরণে ঘরেই তৈরি করা যায়—একেবারেই ঝামেলাহীনভাবে।
১. প্রথমেই মাছগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে লবণ মেখে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর হালকাভাবে ছুরি দিয়ে একটু চিরে নিন যেন মসলা ঢুকে যায় গভীরে।
২. বেগুন গুলো লম্বা করে কেটে ধুয়ে হলুদ আর সামান্য লবণ মাখিয়ে রাখুন।
৩. মাছগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর হলুদ, মরিচ ও লবণ মেখে অল্প তেলে মাঝারি আঁচে ভেজে তুলুন। বেগুনগুলোও হালকা ভেজে তুলে রাখুন।
৪. এখন কড়াইয়ে তেল গরম করে কালিজিরা ফোড়ন দিন। ঝাঁঝালো কিন্তু মোহনীয় একটা ঘ্রাণ উঠবে।
৫. এরপর একে একে পেঁয়াজবাটা, রসুনবাটা, আদাবাটা, ধনেবাটা, জিরাবাটা, হলুদ ও মরিচগুঁড়া দিয়ে অল্প অল্প পানি দিয়ে কষাতে থাকুন যতক্ষণ না তেল ছাড়ে।
৬. এবার ভাজা মাছ ও বেগুন কড়াইয়ে দিন। মসলা ভালোভাবে মাছ ও বেগুনে লেগে যাওয়া পর্যন্ত কষান।
৭. এরপর দুই কাপ গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন। ৫ মিনিট পর ঢাকনা তুলে কাঁচা মরিচ যোগ করুন। আরও ৩ মিনিট রাখুন ঢেকে।
৮. শেষে ধনেপাতা ছিটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
এই বাটা মাছের ঝোল গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলে আলাদা তরকারির দরকারই পড়ে না। চাইলে পাশে রাখতে পারেন কাঁচা পেঁয়াজ আর লেবু। একবেলায় পুরো পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চাইলে এই রেসিপির জুড়ি নেই।
এই রেসিপি শুধু রান্না নয়, এটা একটা অনুভব। ছেলেবেলায় মা বা দাদির হাতের সেই বাটা মাছের ঘ্রাণ, আজ আপনি নিজেই ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনার রান্নাঘরে। তাই দেরি না করে আজই রান্না করুন কালিজিরা ফোড়নে বাটা মাছ আর উপভোগ করুন বাঙালিয়ানার গর্ব।