রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
বিদ্বেষ ছড়ালে এবার রেহাই নেই—জনতাই এখন বিচারক!
অনলাইন ডেস্ক
সারা ভারত এখন যেনো আগুনে পুড়ছে। রাজপথ থেকে রাজনীতি—সব জায়গায়ই একটাই স্লোগান: ‘মোদি হটাও, ভারত বাঁচাও’। দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, এবং যুদ্ধমুখী পররাষ্ট্রনীতির বিপরীতে ভারতবাসীর ধৈর্যের বাঁধ যেন এবার ভেঙে গেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে, সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে আর ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে মোদি সরকার সাধারণ জনগণের জীবনে এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে—আর এবার রাস্তায় নেমেছে সেই জনগণই।
বিরোধিতার এই আগুনে শুধু মুসলিম কিংবা ধর্মনিরপেক্ষরা নন, সরব হয়েছেন অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী সাধারণ নাগরিকও। এমনকি বিজেপির ভেতর থেকেও শুরু হয়েছে বিদ্রোহ। বহু বিজেপি নেতা ও কর্মী আজ মোদি বিরোধী আন্দোলনের রাস্তায়। এমন এক অস্থির প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দুই বিতর্কিত চরিত্র—বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রিপাবলিক বাংলার উগ্র-ইসলামোফোবিক সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। সম্প্রতি কাশ্মীর হামলাকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এদের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু দাবি করেছিলেন, কাশ্মীরের প্রতিশোধ নিতে হলে ‘২৬০টি মুসলমান লাশ চাই’। এমন ভয়ংকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয় পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারত।
ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ—যিনি বাংলাদেশে অনেকের কাছে কুখ্যাত ‘মলম বিক্রেতা’ হিসেবে পরিচিত—তার তথাকথিত সাংবাদিকতা দিয়ে মুসলিম বিদ্বেষ আর বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডার বিষ ছড়াচ্ছিলেন বছরের পর বছর। তিনি শুধুমাত্র বাংলাদেশকে হেয় করেই থেমে থাকেননি, বলেছিলেন, বাংলাদেশিদের ভারতে আসা বন্ধ করে দিতে হবে। এমনকি রোগীদের পাকিস্তানে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বলার মতো বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে জন-সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়।
এর বিরূপ প্রভাব পড়ে পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসা-বাণিজ্যে। বহু বাংলাদেশি ক্রেতা এবং রোগী ভারতে যাওয়া বন্ধ করে দিলে বিপাকে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা। সীমান্ত বাণিজ্যে ধস নামে, চিকিৎসা খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সরাসরি আঙুল তোলেন শুভেন্দু ও ময়ূখের দিকে। ফলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় গড়ায় যে, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ—যাদের অনেকেই হিন্দু—প্রথমবারের মতো এই দুই ব্যক্তি বিরোধী জনরোষে ফেটে পড়েন। শুরু হয় বিক্ষোভ, জুতাপেটা, ধাওয়া-মারধর। এক পর্যায়ে খোদ হিন্দু জনতা ময়ূখ রঞ্জনকে ‘গণধোলাই’ দিয়ে কলকাতা থেকে তাড়িয়ে দেন। শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থা আরও করুণ। কেউ বলছে, তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন, আবার কেউ দাবি করছেন, তিনি ভারতে নেইই।
অন্যদিকে, কিছু সূত্র বলছে—ফ্যাসিস্ট হাসিনার কাছ থেকে আশ্রয় পেতে ময়ূখ রঞ্জন ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন আগেই, আর সেখান থেকেই বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এবার যখন ভারতের সাধারণ নাগরিকরাও তাদের আসল চেহারা বুঝে ফেলেছে, তখন আর তাদের জন্য কোনো জায়গা নেই। সারা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে হারিকেন জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এই দুই বিতর্কিত মুখকে। যাদের ইসলাম বিদ্বেষী উস্কানিতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তারাই আজ রীতিমতো দেশ ছাড়া হওয়ার মতো অবস্থায়।
ভারতের বর্তমান আন্দোলনের আগুনে শুধু মোদি নয়, পুড়ছে তার চারপাশের উগ্রপন্থী, সাম্প্রদায়িক, বর্ণবাদী সব চক্র। আর ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী এখন সেই আগুনেই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুড়িয়ে নিঃশেষ হতে বসেছে। ভারতীয় নাগরিকদের এবার শুধু মোদি নয়, মোদির তৈরি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির আস্ত কঙ্কালটাই ঝাঁটিয়ে ফেলার প্রস্তুতি।