শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
তারুণ্যের জোয়ারে পটিয়ায় ইতিহাস, চট্টগ্রামে নতুন দিগন্ত!
হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম
বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আজ ১০ মে ২০২৫ বিকাল চারটায় অনুষ্ঠিত হলো স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ও নজিরবিহীন জনসমাবেশ, যেখানে তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয় ছিলো সুস্পষ্ট। সমাবেশটির মূল আয়োজক ছিল যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল, যা “তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে মহাসমাবেশ” নামে পরিচিত হলেও এটি রূপ নেয় এক ঐতিহাসিক গণজোয়ারে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের হাজার হাজার নেতাকর্মী এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। পলোগ্রাউন্ড স্কুল মাঠ থেকে শুরু করে টাইগার মোড়, নিউমার্কেট, কোতোয়ালি, সিআরবি পর্যন্ত এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ তিলধারণের ঠাঁই না রেখে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ করেন।
যেখানে বিকাল চারটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে দুপুর দুইটার মধ্যেই মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এই বিশাল উপস্থিতি যুবসমাজের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি তাদের অঙ্গীকারেরই প্রমাণ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বিশাল শোডাউন করে সমাবেশে যোগ দেন, যা ছিল নজরকাড়া এবং অতুলনীয়।
সমাবেশে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক জননেতা আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, যিনি শক্তিশালী বক্তব্যের মাধ্যমে তারুণ্যের জাগরণে নতুন প্রেরণা দেন। তার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জননেতা আলহাজ্ব রেজাউল করিম নেছার, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু এবং কমিটির সদস্য জননেতা বদরুল খায়ের চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ও নবগঠিত কমিটির সদস্য জনাব জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সদস্য জনাব জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য এসএম সুমন, এবং মেধাবী, চৌকস ও সাহসী নেতা জনাব আলহাজ্ব শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মোঃ হাসানুর জামান বাবু, দক্ষিন জেলা যুবদল নেতা রবিউল হোসেন বাদশা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন মানিক, এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ রবিউল হোসেন রবি। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ যারা সকলেই এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশকে সফল ও স্মরণীয় করে তোলেন।
এই বিশাল জনসমাগম শুধু বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের একটি অংশ ছিল না, বরং এটি ছিল নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক প্রমাণ। চট্টগ্রামের রাজপথে এই গণজোয়ার তারুণ্যের অপ্রতিরোধ্য শক্তির কথা জানান দিয়ে গেলো। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, তারা যেকোনো মূল্যে তাদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাবেন। সমাবেশের এই বিপুল সাড়া ইতোমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছে।