সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ঘটে গেল এক বিশাল দরপতন—মোট ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দায় প্রবেশের আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা।
১১ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেছেন। সোমবার মার্কিন শেয়ারবাজারে দেখা গেছে বিশাল পতন। এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বছরের সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন। নাসডাক কম্পোজিটও ৪ শতাংশ কমেছে, যা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে বড় কমে যাওয়া।
এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক গত ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় ছিল, কিন্তু সোমবার তা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গিয়ে দিন শেষ করেছে। এর ফলে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অন্যদিকে, প্রযুক্তি সেক্টরও প্রভাবিত হয়েছে, বিশেষ করে নাসডাকের পতন ১০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক নতুন নীতির কারণে ব্যবসা, ভোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের মতো প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ওয়েলথ এনহ্যান্সমেন্টের জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ আয়াকো ইয়োশিওকা বলেছেন, ‘বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা এখন শেয়ারবাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।’
এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবারের প্রাথমিক লেনদেনে জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক ২ দশমিক ৩ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ২ শতাংশ, এবং হংকংয়ের হ্যাং সেন্ড ইনডেক্স ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের, ইলন মাস্কের টেসলার শেয়ার ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে, এবং এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ারও ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একইভাবে, মেটা, অ্যামাজন, এবং অ্যালফাবেটের শেয়ারও ব্যাপক কমে গেছে।
ট্রাম্প গত রোববার ফক্স নিউজে বলেছিলেন, ‘আমি আগেভাগে অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে চাই না, তবে যুক্তরাষ্ট্রে আমরা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং এটা অনেক বড় ব্যাপার।’ এই মন্তব্যের পরেই শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা যায়।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক কেসিএম ট্রেডের বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্ক নীতি রাজনৈতিক নেতা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, আর এটাই সমস্যার মূল কারণ।’
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘শেয়ারবাজারের চাঙা মনোভাব আর ব্যবসায়িক নেতাদের বাস্তব পরিস্থিতি মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভবিষ্যতই গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই জানান, ‘বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের নীতিতে সাড়া দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।