রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন
জাতীয় স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ওজন মাপার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন কুস্তিগীররা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সরগরম ছিল জিমন্যাস্টিকস অনুশীলনে। আর সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় অ্যাথলেটিকস ঘিরে চলছিল ব্যস্ত প্রস্তুতি। তবে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের পল্টন ময়দান সবচেয়ে বেশি আলোকিত ছিল যুব কাবাডি প্রতিযোগিতা ঘিরে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন উদ্দীপনা ফিরেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে।
নারী ও পুরুষ বিভাগে ১৬টি করে মোট ৩২ দল নিয়ে শনিবার শুরু হয়েছে যুব কাবাডির জাতীয় পর্ব। প্রতিযোগিতাটি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। এই প্রতিযোগিতা যেন অনেকের স্বপ্নের পালে নতুন হাওয়া যোগ করছে। তেমনই একজন, রাঙামাটি থেকে আসা উদীয়মান কাবাডি খেলোয়াড় অংসা মারমা।
‘দুই-তিন বছর ধরে কাবাডি খেলছি। আমাদের রাঙামাটিতে অনেক কোচ আছেন, যারা আমাদের গড়ে তুলছেন। আমিও তেমনই এক কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে খেলায় আসছি। এখানে এসে বুঝতে পারলাম, কাবাডির ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল হতে পারে,’—গণমাধ্যমকে বলেন সুঠাম দেহের এই খেলোয়াড়।
এদিকে, ময়মনসিংহ জেলা দলকে প্রতিনিধিত্ব করা মুক্তগাছার মোয়াজ্জেম রহমান অভি প্রতিযোগিতার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা মফস্বল থেকে এসেছি, এত বড় আয়োজন দেখে অভিভূত হয়েছি। আমাদের অনেকের মধ্যেই এখন জাতীয় পর্যায়ে খেলার স্বপ্ন জেগেছে। এই প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারলে জাতীয় যুব দলে খেলার সুযোগ আসবে, যা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।’
খাগড়াছড়ি জেলা দলের কোচ অংসা মারমাও দল নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দল মূলত বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের মেয়েদের সমন্বয়ে গঠিত। বেশিরভাগই ফুটবলার, কেউবা অ্যাথলেট। কিন্তু কাবাডি খেলতে এসে অনেকেই মজা পাচ্ছে এবং খেলাটিকে পেশা হিসেবে নিতে চাইছে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক সংকেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা কোনো রকম অনুশীলন ছাড়াই নেমেছে, তবুও যে মানসিকতা ও পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। তৃণমূল পর্যায়ে এই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। আশা করি, কাবাডি ফেডারেশন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে।’
বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগও প্রতিযোগিতা নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘এখানে কিছু খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের শারীরিক সক্ষমতা চমৎকার। আমাদের কোচরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছেন, যাতে প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করা যায়। আশা করছি, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একঝাঁক নতুন প্রতিভা উঠে আসবে।’