রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহ নগরীর থানা ঘাট এলাকার হজরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহের (র.) মাজার ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। এ নির্দেশনা সম্পর্কে এলাকাটিতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে অবহিত করা হয়।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুফিদুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের থানাঘাট থেকে ট্রাফিক অফিস পর্যন্ত একই স্থানে এবং একই সময়ে একাধিক পক্ষ সভা-সমাবেশ আহ্বান করেছে।
এসব কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে আমি মুফিদুল আলম, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ময়মনসিংহ, অত্র এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করছি।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ওই এলাকায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, লাঠি বা দেশি অস্ত্র বহন, কোনো ধরনের মাইকিং বা শব্দযন্ত্রের ব্যবহার, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে চলাচল, সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাজারের পক্ষে ও বিপক্ষে একই সময়ে দু’পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হজরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহের (র.) মাজারে গত ৮ জানুয়ারি ১৭৯তম বার্ষিক ওরস উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে কাওয়ালি গানের আয়োজন করা হয়। রাত ১১টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হলে সাড়ে ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা সেখানে হামলা চালায়। দ্রুত শিল্পীদের সরিয়ে নেওয়া হয় এবং মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পরে রাত তিনটার দিকে মাজারে আবার হামলা চালানো হয়। এতে মাজারের পাকা স্থাপনার কিছু অংশ এবং ভেতরে থাকা জিনিসপত্র ভেঙে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ৯ জানুয়ারি রাতে মাজারটির অর্থ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১ হাজার ৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।
মাজারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, দান বাক্স চুরি ও কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশ সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মানববন্ধনের আয়োজন করে। এ নিয়ে একপর্যায়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরে বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ সুফিবাদ ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহ নগরী শিল্প-সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি চিহ্ন। শত শত বছর ধরে এখানে মাজার, মন্দির, মসজিদ পাশাপাশি অবস্থান করছে। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত। যারা এই জঘন্য ঘটনায় জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান বক্তারা।