রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
রাজশাহীর মোহনপুরে মদপানের ফলে চারজনের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন মোহনপুর উপজেলায় মারা গেছেন এবং একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া মদপানের কারণে অসুস্থ আরও চারজন রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, তারা সবাই একসঙ্গে মদপান করেছিলেন।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোহনপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মো. টোটন (৪০), একই গ্রামের মোন্তাজ আলী (৪০) এবং করিশা গ্রামের মো. জুয়েল (৩৫)। এছাড়া রামেক হাসপাতালে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আতোয়ার হোসেন (৩৫)। তার বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গণেশপুর গ্রামে।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা চারজন হলেন, মোহনপুর উপজেলার দুর্গাপুর কাচারিপাড়া গ্রামের আকবর আলী (৪৩), দুর্গাপুর শাহপাড়া গ্রামের মো. ফিরোজ (২৬), দুর্গাপুর মোন্নাপাড়া গ্রামের মো. পিন্টু (২৫) এবং দুর্গাপুর খাঁ পাড়া গ্রামের মো. মোনায়েম (২৫)।
রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, আতোয়ারকে বুধবার রাতে ১২টা ৮ মিনিটে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে তিনি মারা যান। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান বলেন, মঙ্গলবার রাতের দিকে মোহনপুরের আটজন একসঙ্গে মদপান করেন। এরপর বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়। বাকি পাঁচজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওসি আরও জানান, মৃত টোটন ও জুয়েল নিজেরাই মদ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তারা অন্যদের সঙ্গে মদপান করেছিলেন। টোটন ও জুয়েল তাদের নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তবে পুলিশ খবর পাওয়ার আগেই তাদের স্বজনেরা লাশ দাফন সম্পন্ন করেন। মোন্তাজ আলীর মৃত্যুর পর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় মোন্তাজ আলীর ছেলে বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি জানিয়েছেন।