সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ পুনর্বাসন গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধরের পর দুই পায়ের রগ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। আহত নেতার নাম সেলিম রেজা, তিনি একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং পূর্বমোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা হারু সেখের ছেলে।
আহতের ছেলে আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, ৩০-৩৫ জন বিএনপি নেতা-কর্মী তাদের বাড়ির সামনে থেকে সেলিম রেজাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে নির্মমভাবে মারপিট করে এবং দুই পায়ের রগ কেটে পূর্ববাঐতারা স্কুলের সামনে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তবে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা সংকটময় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সয়দাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম রাজা জানান, সেলিম রেজা সিরাজগঞ্জ শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু হত্যার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে তিন দিন আগে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। বাড়ি ফিরে বিএনপি নেতাকর্মীরা তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সেলিম রেজা ছাত্র আন্দোলনে নিহত যুবদল নেতা রঞ্জু ও ২০১৪ সালে নিহত ইউনিয়ন যুবদল নেতা জবান আলী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন, তবে হঠাৎ করেই তিনি এলাকায় আসার পর স্থানীয় জনতা তার বিরুদ্ধে মারধরের খবর শুনেছেন বলে জানান।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান, সেলিম রেজাকে মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: জাগো নিউজ