শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
আগামী সাত দিনের মধ্যেই দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ও লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পূর্ণ উৎপাদনে না থাকা কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুতই স্বাভাবিক সক্ষমতায় ফিরে আসবে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে ৩০০ বিধিতে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এই তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই সংকট কোনো সাময়িক সমস্যা নয়; দীর্ঘদিনের সঞ্চিত চ্যালেঞ্জের ফল। এর দায় শুধুমাত্র বর্তমান সরকারের নয়, বরং অতীতের অব্যবস্থাপনাও এর জন্য দায়ী। যদিও কাগজে-কলমে উৎপাদন সক্ষমতা বেশি, বাস্তবে তার সঙ্গে কিছুটা অমিল রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, বুধবার (২২ এপ্রিল) দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং করতে হয়েছে। তবে সরকার শুরু থেকেই একটি অগ্রাধিকার নীতি অনুসরণ করছে, যাতে ফসল তোলার মৌসুমে কৃষকরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সেটি বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চলমান দাবদাহের মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।