বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন
কাশ্মীরে তীর্থযাত্রার পথে মেঘ বিস্ফোরণে ভয়াবহ বিপর্যয়
অনলাইন ডেস্ক
ভারতীয় জম্মু ও কাশ্মীরে আকস্মিক ভয়াবহ বৃষ্টিপাত ও মেঘ বিস্ফোরণের ফলে অন্তত ৪৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে হিমালয় অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্যোগ, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কিষ্তওয়ার জেলার চাসোটি শহরে এ ঘটনা ঘটে—যা মাচাইল মাতার তীর্থযাত্রার পথে একটি জনপ্রিয় বিরতিস্থল। মাত্র কয়েকদিন আগে হিমালয়ের আরেক রাজ্য উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ বন্যা ও কাদা ধসে বহু প্রাণহানি হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক স্মৃতি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই নতুন এই বিপর্যয় আঘাত হানল।
একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, প্রবল বন্যায় একটি কমিউনিটি রান্নাঘর ও নিরাপত্তা চৌকি পুরোপুরি ভেসে গেছে। মন্দিরে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের জন্য চাসোটি ছিল খাবার ও বিশ্রামের অন্যতম কেন্দ্র। দুর্যোগের সময় সেখানে বিপুল সংখ্যক যাত্রী দুপুরের খাবারের জন্য জড়ো হয়েছিলেন, যাদের অনেকেই স্রোতে তলিয়ে যান।
মাচাইল যাত্রা হিমালয়ের উচ্চভূমিতে অবস্থিত মাচাইল মাতার মন্দিরের পথে অনুষ্ঠিত হয়—যা দেবী দুর্গার অন্যতম রূপকে উৎসর্গকৃত এবং হিন্দু তীর্থযাত্রীদের কাছে পবিত্রতম স্থানগুলোর একটি। চাসোটি থেকে মন্দিরে যাওয়ার পথে শেষ যানবাহনপথটি শেষ হয়, এরপরই শুরু হয় খাড়া পাহাড়ি হাঁটার রাস্তা।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “খবরটা অত্যন্ত মর্মান্তিক, তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে তথ্য আসতে দেরি হচ্ছে।” তিনি জানান, মেঘ বিস্ফোরণ সাধারণ বৃষ্টিপাতের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণঘাতী, কারণ এতে স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসে, যা হঠাৎ বন্যা ও ধ্বংস ডেকে আনে।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, পাহাড়ি গ্রামে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কে তীর্থযাত্রীরা চিৎকার করছেন, কেউ কেউ দ্রুত উঁচু স্থানে ছুটে যাচ্ছেন। কিষ্তওয়ার জেলার বিভাগীয় কমিশনার রমেশ কুমার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ, সেনা ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে, যদিও দুর্গম ভূখণ্ড ও পানির স্রোত তাদের কাজকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলছে।