সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
বাগেরহাটের চিতলমারী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালিয়ে যৌথ বাহিনী দলিল লেখক সিন্ডিকেটের প্রধানসহ তিনজনকে সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) তাদের গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবং অন্যজন বিএনপির নেতা বলে জানা গেছে।
শিবপুর বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবুল হোসেনের ছেলে এস এম নান্টু হাসান বাদী হয়ে শুক্রবার চিতলমারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, টাকা ভাগাভাগির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দলিল লেখক শেখ শামিম আনোয়ার বাবু (৫১), সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং দলিল লেখক সমিতির সভাপতি খান মনিরুজ্জামান (৫১) ও দলিল লেখক সুব্রত অধিকারী (৪২)। ধৃতদের মধ্যে সুব্রত বাগেরহাট সদরের খালিশপুর গ্রামের কালিপদ অধিকারীর ছেলে, খান মনিরুজ্জামান চিতলমারী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ খানের ছেলে এবং শামিম শিবপুর বেপারীপাড়া গ্রামের মৃত শেখ মোস্তফা আনোয়ারের ছেলে।
মামলার বাদী জানান, তার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যৌথ বাহিনী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় নগদ তিন লাখ ৫৯ হাজার টাকাসহ ওই তিনজনকে আটক করা হয়।
চিতলমারী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখক সমিতির ব্যানারে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সিন্ডিকেট নিরীহ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, অফিসটি ঘিরে প্রায় ৫৫-৬০ জন দলিল লেখক রয়েছেন, যারা নিয়মিত মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
তাদের মতে, ৫ আগস্টের আগে এই সিন্ডিকেটের সভাপতি ও সম্পাদক পদে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা। পরে ৫ আগস্টের পর থেকে এ পদে আসেন স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা। বিষয়টি তদন্ত করলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
চিতলমারী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার সমীর কর্মকারকে এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
এদিকে, জেলা সাব রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস গণমাধ্যমকে জানান, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে অফিস বন্ধ থাকায় রবিবারের আগে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। যদি দলিল লেখকদের মধ্যে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’