বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
শিক্ষক নয়, যেন প্রতারণার গুরু! বরখাস্তে আইডিয়াল কাঁপে
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংলিশ ভার্সনের প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক রোকুনুজ্জামান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষকের স্থায়ী নিবাস গোপালগঞ্জে।
বুধবার (১৬ জুলাই) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফেরদাউস স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রোকুনুজ্জামান শেখের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, তিনি বিগত সরকারের সময়ে গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিতর্কিত সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি ও সাবেক সচিব আবু হেনা মোশাররফ জামানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তাকে বিরুদ্ধে অভিযোগ, এমপিওভুক্তির জন্য স্বাক্ষর ও তারিখ জাল করে কাগজপত্র দাখিল করা, মাউশিতে পাঠানো ফরওয়ার্ডিং লেটারে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এমাম হোসাইনের পরিবর্তে মিথ্যাভাবে মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর উপস্থাপন করা হয়। জন্ম ও যোগদানের তারিখ নিয়েও বিস্তর গরমিল দেখা যায়। এমপিওর কাগজে জন্মতারিখ ১৫/০৫/১৯৬৯ দেখানো হলেও তার প্রকৃত জন্ম তারিখ ২০/১০/১৯৮২। সহকারী শিক্ষক হিসেবে ১০/১০/২০০০ তারিখ দেখানো হলেও প্রকৃত যোগদান ১৫/০৯/২০১১ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের তারিখ ০১/১০/২০০০ উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে ০১/০৩/২০২৩।
এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৪টি সৃষ্ট পদ থাকলেও গভর্নিং বডির সদস্য হওয়ায় রোকুনুজ্জামান নিজের নিয়োগপত্রে ‘শূন্যপদ’ উল্লেখ করেছেন। আরও জালিয়াতি করে নিয়োগ রেজুলেশনে ৪টি সৃষ্ট পদের পরিবর্তে ২টি সৃষ্ট ও ২টি শূন্যপদ দেখিয়েছেন।
বহিষ্কারের নোটিশে বলা হয়, তার কর্মকাণ্ড প্রতারণা ও গুরুতর জালিয়াতির শামিল। কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সে বিষয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ১৬ জুলাই থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বাসা পরিবর্তন করতে পারবেন না এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদাউস বলেন, তদন্তের স্বার্থেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যদিকে, রোকুনুজ্জামান শেখ জানান, তিনি কখনো এমপিওভুক্তির আবেদন করেননি এবং কারণ দর্শানোর জবাব দেবেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন।