মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন
তালেবানকে স্বীকৃতি দিয়ে ইতিহাস লিখছে রাশিয়া!
অনলাইন ডেস্ক
চার বছর আগে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নেয় তালেবান। সেই তালেবান সরকারকেই এবার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল রাশিয়া। চলমান সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে আফগান রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে মস্কো—এটাই বিশ্বের প্রথম কোনো দেশের স্বীকৃতি। খবর গণমাধ্যমের, সূত্র আলজাজিরা।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
এ ঘোষণার পরই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক্স-এ একটি ভিডিও বার্তায় জানান, রাশিয়া বিশ্বে প্রথম তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কাবুলে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনভের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার এই সাহসী সিদ্ধান্ত অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হবে।’
এর আগেই রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে যে তকমা দিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেয়। তখন থেকেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত মিলছিল।
এ পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নজর থাকবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিপুল সম্পদ জব্দ করে রেখেছে এবং তালেবানের শীর্ষ নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান দখলে নেয় পুরো আফগানিস্তান। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকার মাত্র এক দিনও টিকতে পারেনি।
রাশিয়া বরাবরই ওই সেনা প্রত্যাহারকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দিয়ে এসেছে। এরপর থেকেই প্রেসিডেন্ট পুতিন তালেবানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি তালেবানদের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন।
২০২২ ও ২০২৪ সালে তালেবান প্রতিনিধিরা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেয়। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিন তালেবানদের “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্র” বলে অভিহিত করেন, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে।