সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
গ্লোবাল অ্যাগ্রোট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড (গ্যাটকো) দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সহ তিনজনকে আদালত অব্যাহতি দিয়েছেন। অব্যাহতি পাওয়া অপর দুইজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু তাহের এই রায় ঘোষণা করেন।
এছাড়া বাকি ১২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে তাদের বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। এই ১২ আসামির মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, প্রয়াত মন্ত্রী কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের স্ত্রী জাহানারা আকবর এবং তার দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন ও এ কে এম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌ সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক সদস্য এ কে রশিদ উদ্দিন আহমেদ, গ্যাটকোর পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, গ্যাটকোর পরিচালক সৈয়দ তানভির আহমেদ ও সৈয়দ গালিব আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম শাহাদত হোসেন, বন্দরের সাবেক পরিচালক (পরিবহন) এ এম সানোয়ার হোসেন এবং বন্দরের সাবেক সদস্য লুৎফুল কবীর।
মামলার আসামিদের মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ নয়জন বিচার চলাকালে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, এম কে আনোয়ার, এম শামছুল ইসলাম, জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী (ফাঁসি কার্যকর) এবং সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন।
এইদিন, আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবীরা, যার মধ্যে ছিলেন মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। অপরদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মীর আহমেদ আলী সালাম।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানিকে (গ্যাটকো) দেওয়া হয়। এতে রাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়। ২০০৮ সালের ১৩ মে তদন্ত শেষে দুদকের উপ-পরিচালক জহিরুল হুদা ২৪ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন।