বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
বৃত্তি পরীক্ষার ফিরে আসা, শিক্ষার্থীদের নতুন আশা!
অনলাইন ডেস্ক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা দীর্ঘদিনের বিরতি কাটিয়ে আবার চালু হতে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে পৃথকভাবে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণ করবে পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাছাই করা ৪০ শতাংশ মেধাবী শিক্ষার্থী।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই। কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ রাখা হয়নি। সরকারি প্রাথমিক, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হবে। অর্থাৎ ১০০ জন শিক্ষার্থীর স্কুলে সর্বোচ্চ ৪০ জন এবং ৫০ জন শিক্ষার্থীর স্কুলে সর্বোচ্চ ২০ জন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। বাছাই করা হবে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বাছাই প্রক্রিয়ায় নীতিমালা না মানলে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শ্রেণিশিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃত্তি পরীক্ষায় মোট পাঁচটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে। বাংলা, ইংরেজি এবং প্রাথমিক গণিতে প্রতিটি বিষয় থেকে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, প্রতিদিন একটি বিষয়। প্রতিটি পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। আর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান দুইটি বিষয় একসঙ্গে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে, যেখানে দুই বিষয়ের জন্য আলাদাভাবে ৫০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে এবং পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
২০২৫ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বৃত্তি পরীক্ষা বার্ষিক পরীক্ষার ১০ থেকে ১৫ দিন পর আয়োজন করা হবে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর, যেখানে ২১ ডিসেম্বর বাংলা, ২২ ডিসেম্বর ইংরেজি, ২৩ ডিসেম্বর গণিত এবং ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।
এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই তারিখগুলোতে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলছেন। বৃত্তি পরীক্ষার পুনঃপ্রবর্তন শিক্ষার্থীদের মেধা উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।