মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলাফল আশাব্যঞ্জক বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মো. আল মামুন।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকা এই চিকিৎসক জানান, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং কিছু জটিলতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এখন তিনি ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন, যেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ ফলোআপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নেই।
মেডিকেল বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এখন আগের চেয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হচ্ছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, নাতনিদের সঙ্গে গল্প করছেন এবং মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা রয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানান, তার কিডনি সমস্যায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, অন্যান্য জটিলতাও ধীরে ধীরে কমছে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা সম্ভব হয়নি।
গত ৭ জানুয়ারি কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর তিনি লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হন। জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে ১৭ দিন থাকার পর ২৪ জানুয়ারি রাতে তিনি তারেক রহমানের বাসায় ওঠেন।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাননি। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে তার বিদেশে চিকিৎসার পথ উন্মুক্ত হয়।
এছাড়া, বিভিন্ন মামলায় তাকে পর্যায়ক্রমে খালাস দেওয়া হচ্ছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।