রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
মোদিকে থামালো আমেরিকা, রক্ষা পেল বিশ্ব!
অনলাইন ডেস্ক
দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তান হঠাৎ করেই সম্মত হয়েছে একটি জরুরি এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে। এই নাটকীয় মোড় ঘোরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দুঃসাহসী কূটনৈতিক তৎপরতা মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, তবু নতুন এক বিস্ফোরক তথ্য জানাচ্ছে, সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র এমন এক ‘ভয়াল’ গোয়েন্দা বার্তা পায়, যা পুরো অঞ্চলকে পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারত।
সিএনএনের অনুসন্ধান বলছে, শুক্রবার সকালেই সেই আতঙ্কজনক তথ্য পৌঁছায় হোয়াইট হাউসে—যেখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যুদ্ধ যদি থামানো না যায়, তবে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে বাধ্য। তখনই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি ফোন করে তীব্র হুঁশিয়ারি দেন এবং অবিলম্বে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসার ‘অ-অপশনাল’ আহ্বান জানান।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় ভ্যান্স, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এবং হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস একটি ক্রাইসিস টিম গঠন করে টানা ৪৮ ঘণ্টা ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালান। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ওই ‘ভয়াবহ’ তথ্যের মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও পরমাণু হুমকির সম্ভাব্য ছক।
এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভ্যান্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করেন এবং পরামর্শ দেন তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের। ট্রাম্পের সম্মতিতে ভ্যান্স মোদিকে ফোনে জানান, ‘এই সংঘাত শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি সহজেই বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।’ তার এই আহ্বানকে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘সতর্ক কৌশলগত ধাক্কা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের মতে, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল না, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। এই কূটনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতে গিয়েই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোমেসি’ সক্রিয় করে। ভ্যান্স মোদিকে বিকল্প একটি সমঝোতা প্রস্তাব দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ধারণায় পাকিস্তানের পক্ষেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
রাতভর মার্কো রুবিও ও অন্যান্য সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন, যাতে উত্তপ্ত আবহে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রচেষ্টা উভয় পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনে বলে দাবি হোয়াইট হাউসের।
একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোদি ও ভ্যান্সের ফোনালাপ ছিল একটি বড় মোড় নেওয়া মুহূর্ত। মোদি তার দৃঢ় মনোভাবের বাইরে এসে পরিস্থিতি বিচার করে সংযত অবস্থান নিয়েছেন।’ সূত্র জানায়, ভ্যান্স অতীতে মোদির সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন, এবং সেই সম্পর্ক এই দফায় বড় কাজে লেগে যায়।
যদিও ভারত ও পাকিস্তান তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেনি, সিএনএন দাবি করছে- শান্তি চুক্তির খসড়া তৈরিতে মার্কিন প্রশাসন সক্রিয় না থাকলেও, আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে তারা ‘ছায়াপথের নেতৃত্ব’ দিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের ‘নীরবতা’ ভেঙে কূটনীতিকে সামনে আনা। এবং এই নেপথ্য কৌশলই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
ঘটনার গতিপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারত-পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘাত এক ধ্বংসাত্মক পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র সময়োচিত এবং সাহসী হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সে সম্ভাবনাকে কার্যত অঙ্কুরেই বিনাশ করে।