সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খামার বন্ধের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে কুকুরের মাংসের বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ কুকুরের মাংস খামার স্বেচ্ছায় বন্ধ হয়ে গেছে।
টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদ কুকুর প্রজনন, জবাই ও বিতরণ সংক্রান্ত নতুন আইন পাস করেছে। এরপর আগস্ট থেকে সরকার কুকুরের মাংস ব্যবসায়ীদের খামার বন্ধে উৎসাহিত করতে শুরু করে।
সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট ১ হাজার ৫৩৭টি নিবন্ধিত কুকুরের মাংস খামারের মধ্যে ৬২৩টি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট খামারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্ধ হয়েছে—৪৪৯টি। মাঝারি আকারের ১৫৩টি খামার বন্ধ হয়েছে, আর বড় খামারগুলোর সংখ্যা ২১টি।
সরকার আশা করছে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ আরও ৯৩৮টি খামার বন্ধ হয়ে যাবে, যা মোট খামারের প্রায় ৬০ শতাংশ।
২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কুকুরের মাংস-বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার জন্য সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের খামার বন্ধ করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা, গাইডলাইন এবং নতুন ব্যবসা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, যারা এখনও ব্যবসা বন্ধ করেনি, তাদের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাবে সরকার। কতগুলো কুকুর রাখা হচ্ছে, খামারের আকার পরিবর্তন হয়েছে কি না, এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। সম্ভাব্য সরকারি সহায়তার তথ্যও তাদের জানানো হবে, যাতে তারা দ্রুততম সময়ে খামার বন্ধে রাজি হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের পশুকল্যাণ ও পরিবেশ নীতি ব্যুরোর প্রধান পার্ক জুং-হুন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিটি কুকুরের মাংস খামার বন্ধ করা। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা আমাদের উদ্যোগে সহযোগিতা করুক, যাতে দক্ষিণ কোরিয়া উন্নত পশুকল্যাণ নীতির দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়।”
বন্ধ হওয়া খামারের কুকুরগুলোর দেখভালের দায়িত্ব নেবে স্থানীয় প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র। যদি আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না থাকে, তবে খামারে অস্থায়ীভাবে কুকুর রাখা হবে সরকারের তত্ত্বাবধানে।
যারা সময়ের আগেই খামার বন্ধ করবে, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি কুকুরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ওন (প্রায় ১৫৪ থেকে ৪১০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রবণতা ক্রমেই কমছে। পূর্ববর্তী প্রশাসন কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি কারণ, এটি নিষিদ্ধ করলে অনেকের জীবিকা সংকটে পড়ত। তবে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল এবং তাঁর স্ত্রী কিম কিয়ন হির সমর্থনে, বর্তমান সরকার কুকুরের মাংস বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়ন করছে। 2027 সালের মধ্যে পুরোপুরি কুকুরের মাংস বাণিজ্য বন্ধ করতে সরকারের দৃঢ় মনোভাব স্পষ্ট।
সূত্র: টাইমস, এএফপি