1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
রক্তঝরা দিন: ১২৬ অস্ত্রধারী শনাক্ত, গ্রেপ্তার মাত্র ১৯ - Janatar Jagoron
  • E-paper
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
পশ্চিমবঙ্গের সব মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক শৈশব অভিজ্ঞতা তুলে প্রিয়ন্তি উর্বীর আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট জাস্টিস কার্ড দাবিতে কঠোর বার্তা দিলেন হাসনাত পল্লবীর রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত তদন্ত নির্দেশ আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের এক বছর পরও কার্যকর হয়নি রায় গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা, ঘরে ছিল পাঁচ লাখ টাকা তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা গরমে জনপ্রিয় আখের রস কতটা নিরাপদ, জানুন বিস্তারিত কুমিল্লায় পথসভায় তারেক রহমান উপস্থিত চাঁদপুরে উন্নয়ন কর্মসূচি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা হয়নি: জামায়াত আমির

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রক্তঝরা দিন: ১২৬ অস্ত্রধারী শনাক্ত, গ্রেপ্তার মাত্র ১৯

  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৫৯ বার পঠিত
রক্তঝরা দিন

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে অস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এগিয়ে যাচ্ছেন এক যুবক। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই যুবক ঢাকা উত্তর সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ। তিনি সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাতিজা। গত ৪ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। সেদিন আসিফের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক এক দিন আগে গত ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরে এ রকম আরেকটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। সেদিন মোহাম্মদপুরের বছিলা সড়কেও ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়া হয়েছিল। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঢাকা উত্তরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরেকজন সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান ওরফে রাজীব এবং সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান ওরফে বিপ্লব আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এগিয়ে যাচ্ছেন।

গত জুলাই ও আগস্টের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার যেসব এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছিল, এর মধ্যে মোহাম্মদপুর অন্যতম। এর মধ্যে ১৭–২১ জুলাই এবং ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বছিলা পর্যন্ত সড়কে অবস্থানকারী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করা হয়েছিল। আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মোহাম্মদপুর এলাকায় দলবল নিয়ে সক্রিয় ছিলেন সাবেক দুই কাউন্সিলর আসিফ ও রাজীব এবং বিপ্লব। গত ৫ আগস্ট দুপুরের পর তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান। এখন পর্যন্ত তাঁদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে এভাবে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র–জনতার অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকাসহ অন্তত ১২ জেলায়। অন্য জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, রংপুর, জামালপুর, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, সিলেট ও লক্ষ্মীপুর। এর বাইরে ঢাকা জেলার সাভার, আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জে ছাত্র–জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এসব ঘটনায় ১২৬ জন অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকেরা।

ঢাকাসহ দেশের ১২টি জেলায় যে ১২৬ জন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা গেছে, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকেরা নিশ্চিত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে শনাক্ত হওয়া ১০ জন অস্ত্রধারীর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। ফেনীতে শনাক্ত হওয়া ৩৩ জন অস্ত্রধারীর মধ্যে ১ জনকে, কেরানীগঞ্জে ৪ জনের মধ্যে ১ জনকে এবং সিরাজগঞ্জে ২ জনের মধ্যে ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। অবশ্য অস্ত্রধারীদের সঙ্গে হামলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। অনেকেই নজরদারিতে আছেন। তাঁদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামে অস্ত্রধারীদের খোঁজ জানে না পুলিশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু নেতা–কর্মীকেও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছাত্র–জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা সবাই চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা–কর্মী।

চট্টগ্রাম শহরে ছাত্র–জনতার আন্দোলন দমনে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা গেছে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী ওরফে বাবরকে। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া যুবলীগের কর্মী মো. তৌহিদ ও মো. ফিরোজকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা গেছে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে আরও যাঁরা মহড়া দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী মো. দেলোয়ার।

অস্ত্রধারীদের গত আড়াই মাসেও কেন গ্রেপ্তার করা যায়নি, তা জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী মো. তারেক আজিজ গণমাধ্যমকে বলেন, থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় মাঝখানে অভিযান চালানো যায়নি। অস্ত্রধারীদের বেশির ভাগই গা-ঢাকা দিয়েছেন। এখন অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ফেনীতে ৯ জনকে হত্যায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ফেনী শহরের মহিপাল এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা একে-৪৭-এর মতো দেখতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ছেন। গত ৪ আগস্ট ওই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। সেদিন গুলিতে মহিপালে চার শিক্ষার্থীসহ ৯ জন নিহত হন।

ভিডিও ফুটেজে যাঁদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন বাবলু এবং ফেনী সদরের কাজীরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ।

মহিপাল এলাকা থেকে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ৪ আগস্ট মহিপালে অন্তত ৩৩ জনের হাতে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তাঁদের সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা সবাই ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারীর অনুসারী।

তবে ৩৩ জন অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করা গেলেও গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র একজন। তিনি হলেন ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি ওরফে লিটন। তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

যদিও ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছেন তাঁরা।

শামীম ওসমানও গুলি ছুড়েছেন, বৈধ অস্ত্র জমা দেননি

নারায়ণগঞ্জে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিভিন্ন সময় (১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত) প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও হামলায় অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মী। তখন প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, শামীমের বড় ভাই নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান, শামীমের শ্যালক তানভীর আহমেদ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামকে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জে অন্তত ১৪ জন অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তাঁদের একজনকেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে যেসব অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, শামীমের শ্যালক তানভীর আহমেদসহ অন্তত ৬ জন বৈধ অস্ত্রধারী। তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র জমা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..