শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন
বডিগার্ড থেকে গ্রেপ্তার—তানোরে নাটকীয় মোড় বাবুর জীবনে!
গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মী বা বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত কাউসার আহমেদ বাবু নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তানোর পৌরসভার আমশো মহল্লায় নিজ বাড়ি থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করে তানোর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। বাবুর বয়স ৩৭ বছর, এবং তিনি স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন, বিশেষ করে সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে।
বাবুর অতীতও কম নাটকীয় নয়। একসময় তিনি বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর সদস্য ছিলেন। তবে ২০০৯ সালের ঐতিহাসিক বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তার নাম উঠে আসে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর বাবু তার এলাকায় ফিরে আসেন এবং ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মূলত অস্ত্র চালনায় দক্ষতা এবং সাহসের কারণে ফারুক চৌধুরী তাকে নিজের ব্যক্তিগত ‘গানম্যান’ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োজিত রাখেন। এলাকায় বাবুর উপস্থিতি সবসময়ই দৃষ্টি কাড়ত, বিশেষ করে যখন তিনি কোমরে পিস্তল ঝুলিয়ে সাবেক এমপির পাশে থাকতেন।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাবুকে ওমর ফারুকের ছায়াসঙ্গী হিসেবে প্রায় সবসময়ই দেখা যেত। তবে বাবুর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি তার নিজের নাকি সাবেক এমপির লাইসেন্স করা অস্ত্র, সেই বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় বাবুর কাছ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, বাবু সত্যিই ওমর ফারুক চৌধুরীর গানম্যান ছিলেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। তবে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত। ওসি আরও বলেন, বাবুর বিরুদ্ধে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এই মামলার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় ফেরার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
অস্ত্রের বিষয়েও পুলিশের তদন্ত চলছে। ওসি জানিয়েছেন, বাবুর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার না হলেও, তার অস্ত্র বহনের বিষয়ে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে, যা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বাবুর গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক জটিলতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের স্বাভাবিক পদক্ষেপ।
বাবুর অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—একসময় যিনি সাবেক এমপির নিরাপত্তার প্রধান ভরসা ছিলেন, তিনিই এখন পুলিশের হেফাজতে। এই গ্রেপ্তার ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।