শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
রাজপথের অগ্নিপরীক্ষায় জ্বলেছে লিয়াকত আলীর অদম্য সাহস।
অনলাইন ডেস্ক
গাজীপুরের শ্রীপুরের মাটিতে উঠে দাঁড়ানো মোঃ লিয়াকত আলী—এক সাঁজানো সৈনিক যিনি রাজপথের প্রতিটি লড়াইয়ে নিজেকে ঢেলে দিয়েছেন আদর্শ ও উৎসাহের অগ্নিপরীক্ষায়। মাধখলা গ্রামের নির্লিপ্ত প্রান্তরেই বেড়ে ওঠা এই তরুণ ১৯৯৪ সালে শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতির অচির থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েন, তখন গোপন সংকল্প ভেতরে নিয়ে–শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন সাজাতে হবে বাংলার কোলাহলময় ভবিষ্যৎ।
ছাত্রলীগের অত্যাচারে কাটিয়ে দিয়েছেন অসংখ্য দিন; বুনো প্রাণের মতো ছুটে বেড়িয়েছেন নির্যাতিত সংগঠকের পাশে, কখনো নিজেকে ঢাল তুলেছেন, কখনো রক্তাক্ত পিঠে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবুও রাজপথের তাড়া ছাড়েননি। ২০০৩ সালে শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি নিজেই গড়ে তুলেছেন দলীয় শৃঙ্খলা, আর বিশ্বাসের সেতু দিয়ে যুক্ত করেছেন গ্রাম আর শহর।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অধ্যক্ষ এম এ মান্নানের পরিকল্পিত বর্ধিত সভা নিরুপায় এলাকাবাসীর হাতে তুলে দিতে অর্থায়ন করেছেন তিনি, বিনিময়ে কিছুই চাননি—শুধু স্বপ্ন বুনেছেন এক মুক্ত বাংলাদেশে, যেখানে কারো মাথা bowed নয়। তাঁর ওই নিঃস্বার্থ উন্মুক্ত মঞ্চ দেখেছিল সমর্থকের উচ্ছ্বাস আর প্রতিপক্ষের শ্রদ্ধার চোখ।
কিন্তু রাজনৈতিক জীবন কোনোদিনও শুধুই গোলাপের পথ নয়। ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে যখন স্বৈরশাসনের ঘূর্ণিঝড় নামছিল, লিয়াকত আলী দাঁড়িয়েছিলেন বিপুল দমননীতির চোখের সামনে। একের পর এক হামলা, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন—সবই জমে উঠেছিল তার বিরুদ্ধে, কিন্তু সে তো একজন সৈনিক, দমে যায় কোথায়! কারাগারের অন্ধকার কোণে থেকেও চলে এসছিল অদম্যা প্রত্যয়, ফিরে আসার পর তীর ছুড়তে শুরু করেন অপপ্রচারীদের হৃদয়ে।
২০২১ সালে শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে চলে যাবার পথে কোণায় লুকিয়ে থাকা আক্রমণাত্মক বাহিনী তাকে ঘায়েল করে—আবারও মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে পুলিশ স্টেশনে পাঠানো হলো। তবু ভোটের ময়দানে নীরবতা নয়; হৃদয়ে লালিত সেই একটাই কথা—“গণতন্ত্রের পবিত্র লণ্ঠন হাতে রেখে পিছনে সরার মতো নই।”
বর্তমানে গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সদস্য হিসেবে তিনি কাজ করছেন, সেখানে দেখেন দলের ঘনিষ্ঠ নেতারা কিছুমাত্র বিপদের মুখে মাথা নামাতে চায়, সেখানেই লিয়াকত আলী দাঁড়ান সামনের সারিতে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাঁপি দিতেও প্রস্তুত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের গাজীপুর জেলা সদস্য সচিবের পদোন্নতির পর সভাপতির আসনকে কাঁপিয়ে তুলেছেন তার চিন্তার আস্তর, যা দেখেছে তৃণমূলের অনুপ্রেরণা খুঁজে ছুটে আসা নতুন প্রজন্ম।
“২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিদায় নেয় স্বৈরাচার, কিন্তু তার দোসররা আজও মিথ্যার বিষ ছড়াচ্ছে,”– কণ্ঠে এই সজাগ বাণী নিয়ে সোচ্চারে লড়াই চালিয়ে যেতে অঙ্গীকার করেন লিয়াকত আলী। ফেসবুক-টুইটারে ভেসে বেড়ায় বিভ্রান্তি, অপপ্রচার, গুজবের অজস্র খেলা; সবমিলিয়ে যেন একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, এমনই মনে করেন তিনি।
মাঠের কাঁকড়া পর্য্যন্ত, সেদিনকার লড়াকু যুবকের মুখে আজও মেলে সেই সামরিক সাহস—কাঁধে বন্দুক নয়, হাতে গ্রাম-জনতার আশা নিয়ে লড়ছেন। শ্রীপুরবাসীর চোখে তিনি এক পরিশ্রমী, মানবিক মার্কসবাদী নেত্রীর ছত্রছায়া, যার রাজনীতি কখনোই ব্যক্তিগত স্বার্থের লড়াই নয়, বরং মানুষের সেবার উদ্যান রোপণ করার লড়াই। অপপ্রচারের ঢালকে ভেঙে তিনি চোখের জলে সেঁকা স্বপ্ন বুনছেন, গণতন্ত্রের বীজ ছড়াচ্ছেন রাজপথের পোড়া ধূলিতেই। এত বড় মঞ্চে লিয়াকত আলীর পদচিহ্নই আজকের রাজনীতি; তার সংগ্রামই আগামীকের ইতিহাস।