শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
নির্বাচন পেছালে ফ্যাসিস্টরা আবার জেগে উঠবে—এবার আর ছাড় নয়, লড়াই চলবেই!
হায়দার আলী মিঠু, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে নির্বাচন দিন। নির্বাচন না দিলে ষড়যন্ত্র আবার মাথাচাড়া দেবে। একটি দেশে বসে ফ্যাসিস্ট পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা বিভিন্ন সময় ভিডিও বার্তায় নিজেকে এখনো প্রধানমন্ত্রী দাবি করছেন। তার এতোবড় সাহস হয় কিরে করে? তাই নির্বাচন বিষয়ে আর দেরি নয়।
তাই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে নইলে ফ্যাসিস্টরা আবার মাথাচাড়া দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারে বিএনপি ১৬ বছর রাজপথে ছিল। নির্বাচন নিয়ে কোন তালবাহানা করলে বিএনপি তা মানবে না। তাই নির্বাচন পেছানোর কোন সুযোগ নেই।
প্রতিটি রাজনৈতিক দলসহ দেশের জনগণ চায় অতিদ্রুত নির্বাচন। কিন্তু কেউ কেউ আবার চান নির্বাচন যেন দেরিতে অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বগুড়া শহরের মফিজ পাগলার মোড়ে স্থানীয় একটি মোটেলে রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত জেলা-মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এই দেশ জনগণের। তাই জনগণের নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করছে। তার মানে এই না জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভোট না দিয়ে ক্ষমতার গদি আঁকড়ে ধরে থাকবেন।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে গা ঢাকা দিয়েছেন। তিনি সেখানে বসে বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। ফ্যাসিস্টদের কোন ষড়যন্ত্র এই দেশে বাস্তবায়ন হতে দিবে না বিএনপি।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্যই বিএনপি জন্মলাভ করেছে। যেখানে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে সেখানে বিএনপি সফল হয়েছে।
যেখানে শেখ মুজিব ব্যর্থ হয়েছে সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন। যেখানে শেখ হাসিনা ব্যর্থ হয়েছেন সেখানে আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে লড়াই করে সফল হয়েছেন। জনগণই তাকে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন বার বার।
চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন,পলাতক শেখ হাসিনাকে বলা হয়েছিল বিনাভোট না গিয়ে নির্বাচনের পথে হাঁটুন। কিন্তু তিনি ক্ষমতার দম্ভে নির্বাচনের পথে যাননি। আজকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরাজয় হলে পিছনের দরজা দিয়ে তাকে ভারতে পালাতে হতো না। ভারতে আশ্রয় নিতে হতো না। তাই ক্ষমতা দেখানোর কিছু নাই। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতা পেয়ে পলাতক আওয়ামী লীগ সরকার যা খুশি তা শুরু করেছিল। তাই ক্ষমতার দম্ভ কমাতে হবে। জনগণ কী চায় সেটা জানতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আগামী দিনে ক্ষমতায় যেতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে জনগণ বিএনপিকে খারাপভাবে, দোষারোপ করেন।
তিনি বলেন, ৭২ থেকে ৭৫ এই দেশের গণতন্ত্র আওয়ামী লীগ খেয়ে ফেলেছিল। মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল না। না খেয়ে মানুষ বেওয়ারিশ লাশ হয়ে পড়ে থাকতো। ইতিহাস থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা গ্রহণ করে নাই। গত ৫ আগস্টের আগে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাড়িতে ঘুমাতে পারে নাই। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য জায়গা দখল, চাকরি থেকে বিতাড়িত করেছে। কিন্তু আমাদের নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, আপনারা এই মুহূর্তে হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে যাবেন না। ফলে আমাদের নেতার নির্দেশে কোথাও কিছু হয় নাই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই করে যাচ্ছেন। দেশনায়ক তারেক রহামন বার বার বলছেন, জনগণের ভোটেই বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে চায়।
বিএনপি রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত খালেকের সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, কৃষক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি জাহির রায়হান আহমেদ, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
পরে বিকালে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পর্যালোচনা সভা করা হয়।