সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
খাগড়াছড়িতে শুরু হওয়া পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘাত পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙামাটিতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে দুই জেলায় চারজন নিহত ও অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন গতকাল শুক্রবার দুই জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং গোলাগুলির ফলে পাহাড়ের দুই সম্প্রদায় আতঙ্কগ্রস্ত। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সেনা, পুলিশ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
সংঘাতের সূত্রপাত ও দাঙ্গার বিস্তার
সংঘাতের সূচনা খাগড়াছড়ির মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে মো. মামুন নামে এক বাঙালির মৃত্যুর পর। ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ থেকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দীঘিনালা থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে রাঙামাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। দীঘিনালা এলাকায় বেশ কিছু দোকানপাট ও ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, যার মধ্যে পাহাড়িদের ৭৮টি এবং বাঙালিদের ২৪টি দোকান রয়েছে।
খাগড়াছড়িতে রাতভর গোলাগুলি
বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, যাতে তিনজন পাহাড়ি নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। গোলাগুলির শব্দ পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় এবং ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে কাজ করছে।
রাঙামাটিতে সহিংসতা ছড়ায়
খাগড়াছড়ির উত্তেজনা গতকাল শুক্রবার রাঙামাটিতে নতুন মাত্রা পায়, যেখানে পাহাড়িদের বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষ বাঁধে। আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি দোকান ও যানবাহনে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে অনিক কুমার চাকমা নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের ৫৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি জেলাতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন, এবং সেখানে সেনা ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়।
সরকারি উদ্যোগ ও প্রতিরোধ
সরকার পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়েছে। আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পরিদর্শন করবে। জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপরাধীদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো পক্ষ আইন হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।