রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
সাভারের আশুলিয়ার দুর্গাপুরে রান্নার গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বছরের এক শিশু ও তার বাবা-মা দগ্ধ হয়েছেন। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর পর দগ্ধদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুর্গাপুর চালাবাজার এলাকায় সোহাগ মন্ডলের মালিকানাধীন ভাড়া বাড়ির নিচতলার এক ফ্ল্যাটে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— মো. জাহাঙ্গীর (৪০), তার স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৫) ও তাদের শিশু কন্যা তানহা (৫)। জাহাঙ্গীর ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কর্মী, আর বিউটি কাজ করেন পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, সকালে রান্নার জন্য চুলা জ্বালাতে গিয়েই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং জানালার গ্রিল বাঁকিয়ে দেয়। দগ্ধদের মধ্যে শিশুটির অবস্থা গুরুতর। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
একই দিনে হেমায়েতপুরেও গ্যাস বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৭
এদিন সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুরে নবাব আলীর মালিকানাধীন একতলা বাড়ির একটি কক্ষে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শিশুসহ সাতজন দগ্ধ হন।
দগ্ধরা হলেন— বাড়ির মালিকের প্রথম স্ত্রী মোছা. আমেনা (৬০), তার মেয়ে শিল্পী (৩৫), নাতি জিসান (২০), মো. সজিব (৮), প্রতিবেশী সোলায়মান (১৪), হালিমা (৪২) ও সুজাত মোল্লা (২৬)।
প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম জানান, নবাব আলীর দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে বাড়িতে বেড়াতে এলে তাকে এগিয়ে দিতে বাইরে যান নবাবের প্রথম স্ত্রী। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা লোকজন গ্যাসের তীব্র গন্ধ পান। দরজা ভাঙার চেষ্টা করার সময় লোহার হাতুড়ির আঘাতে স্পার্ক হয়, সঙ্গে সঙ্গেই দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এক মাসে আশুলিয়ায় তৃতীয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ!
প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার গুমাইল এলাকায় রান্নার গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে একই পরিবারের ১১ জন দগ্ধ হন, যার মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বারবার এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।