রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সিঙ্গারা খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সাবেক কাউন্সিলরসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার গুনবহা তালতলা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় পৌরসভার তালতলা বাজারের এক হোটেলে সিঙ্গারা খাওয়া এবং বিল পরিশোধ নিয়ে হোটেল মালিক বিল্লাল মল্লিকের সঙ্গে বিএনপির নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ হোসেন মোল্যার ছেলে মো. রাহুল মোল্যার (২৩) বাগবিতণ্ডা হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে রাহুল ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন বিল্লালের দোকানে ভাঙচুর চালায়।
এ ঘটনার পর সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ হোসেন বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষতিপূরণ বাবদ বিল্লালকে দুই হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিল্লাল তা গ্রহণ না করায় তিনি সালিসে মীমাংসার প্রস্তাব দেন।
তবে, সালিসে বসার আগেই শুক্রবার সকালে গুনবহা গ্রামের নুরুল হক মল্লিকের ছেলে ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় ওয়ার্ড সহসভাপতি নাসির মল্লিকের নেতৃত্বে কিছু ব্যক্তি এসে ফরিদ হোসেন মোল্যার সমর্থকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এই সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা নাসির মল্লিকের ভাই ওমর মল্লিক এবং ফরিদ হোসেন মোল্যার সমর্থক দুলু শেখের ছেলে রাজা শেখ গুরুতর আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া সংঘর্ষে ফরিদ হোসেন মোল্যা, গুনবহা গ্রামের ছালাম শেখের ছেলে টুলু শেখ (২৪), মোহাম্মাদ জাহিদ, আকিম বিশ্বাস (৩২), আওয়ামী লীগ নেতা নাসির মল্লিক (৫০), মোহাম্মদ আলী (৩২), ওমর মল্লিক (৩০), জাকারিয়া মাহমুদ (২৮), সিরাজুল হক (৪৮), মারুফ মল্লিক (৪০), মিলন মল্লিক (২৫), আহাদ মল্লিক (১৫), সিরাজুল ইসলাম (৪৮) আহত হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী এবং আহত জাকারিয়া মাহমুদ বলেন, সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ হোসেন মোল্যার ছেলে রাহুল বিল্লালের দোকান থেকে সিঙ্গারা খেয়ে বিল না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ নেতা নাসির মল্লিক বলেন, ‘আমার ভাই বিল্লালের সঙ্গে লেনদেন নিয়ে ফরিদ মোল্যার ছেলে রাহুলের ঝামেলা ছিল। বিল্লাল টাকা পরিশোধ করলেও সিঙ্গারার বিল না দেওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার সকালে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’
বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ হোসেন মোল্যা দাবি করেন, ‘আমার ছেলে বিল্লালের কাছে ৫ হাজার টাকা পায়। সেই কারণে সিঙ্গারার বিল নিয়ে কথা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা নাসির মল্লিক তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। এতে আমিসহ ১০ জন আহত হয়েছি। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
বোয়ালমারী থানার ওসি মো. গোলাম রসুল জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।