রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আঃ হাকিম শেখের বিরুদ্ধে হজে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আঃ হাকিম শেখ তাকে হজে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, পাসপোর্ট এবং ভিসা গ্রহণ করেন। টাকা গ্রহণের প্রমাণস্বরূপ ইসলামী ব্যাংক ভবানীগঞ্জ শাখার একটি চেকও প্রদান করেন, যার নম্বর ৫৩৫৩০০৪। তবে ২০২৪ সালে তাকে হজে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে, হজে পাঠাতে না পারলেও আঃ হাকিম শেখ রফিকুল ইসলামের টাকা, পাসপোর্ট, কিংবা ভিসা ফেরত দেননি। বরং তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাপ সৃষ্টি করেন।
বিভিন্ন গ্রামের আরও ১০-১৫ জন ভুক্তভোগী জানান, আঃ হাকিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে “মেসার্স আবু সিয়াম হজ কাফেলা”-এর ব্যানারে প্রতারণা করে আসছেন। তারা অভিযোগ করেন, হজে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আঃ হাকিম তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা, পাসপোর্ট, ও ভিসা নিয়েছেন। তবে তাদের কেউই হজে যেতে পারেননি এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাননি।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রতিনিধি বলেন,
“আঃ হাকিমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। তিনি অনেকের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আঃ হাকিম শেখ এর আগে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে একাধিকবার লাঞ্ছিত হয়েছেন। তবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার প্রতারণার পরিসর ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুবুল ইসলাম জানান, এ ধরনের অভিযোগে দ্রুত পুলিশকে অবগত করা প্রয়োজন।
অভিযুক্ত আঃ হাকিম শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা তাদের জমা দেওয়া টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি হজে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।