সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
“নিজেই চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে দ্বিধায় স্যাম অল্টম্যান, বললেন—চোখ বুজে বিশ্বাস নয়”
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়যাত্রায় সতর্কবার্তা এল সেই মানুষটির কাছ থেকেই, যিনি এ প্রযুক্তির অন্যতম পুরোধা—চ্যাটজিপিটির নির্মাতা স্যাম অল্টম্যান! তিনি বলছেন, যতই শক্তিশালী হোক না কেন এআই, এখনো তা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়, বরং মানুষ যদি চোখ বন্ধ করে তা অনুসরণ করে, তবে বড় বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এই বক্তব্য দেন ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান। তিনি জানান, বাবা হওয়ার পর সময় বাঁচাতে ও সিদ্ধান্ত নিতে চ্যাটজিপিটির ওপর তাঁর নির্ভরতা বেড়েছিল অনেক বেশি। সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর সময় থেকে শুরু করে, ডায়াপারের র্যাশের ঘরোয়া সমাধান, এমনকি দৈনন্দিন বিভিন্ন পারিবারিক সিদ্ধান্তেও তিনি এআইয়ের সহায়তা নিয়েছেন।
তবে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো—এই চ্যাটজিপিটির সহপ্রণেতা নিজেই জানান, অনেক সময় চ্যাটজিপিটির দেওয়া তথ্য বিভ্রান্তিকর কিংবা অস্পষ্ট মনে হয়েছে তাঁর। ফলে অল্টম্যান স্পষ্ট করে বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মানুষের হাতেই থাকা উচিত, প্রযুক্তি শুধু একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে।”
এই বক্তব্য প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য একধরনের ‘রিয়েলিটি চেক’। কারণ বর্তমানে অনেকেই চ্যাটজিপিটির উত্তরে সন্দেহ না করেই তা ব্যবহার করছে শিক্ষায়, স্বাস্থ্যপরামর্শে, এমনকি আইনি বা আর্থিক সিদ্ধান্তে। অথচ অল্টম্যান নিজেই বলছেন—এআই এখনো নিখুঁত নয়।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এক শক্তিশালী প্রযুক্তির সূচনালগ্নে রয়েছি। কিন্তু এখনই যদি সচেতনভাবে এর ব্যবহার না হয়, তাহলে আস্থা ও বাস্তব সক্ষমতার মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হতে পারে।”
পডকাস্টে অল্টম্যান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন—এআই ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা। তিনি জানান, চ্যাটজিপিটিতে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি বা ‘পারসিসটেন্ট মেমোরি’ নামের নতুন একটি ফিচার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অতীত কথোপকথন ও পছন্দ অনুযায়ী আরও ব্যক্তিগতকৃত সেবা দেওয়া যাবে।
তবে এখানেই প্রশ্ন উঠে আসে—ব্যবহারকারীর তথ্য নিরাপদ থাকবে তো? অল্টম্যান বলেন, “আমরা সবসময় ব্যবহারকারীর আস্থা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি। স্মার্ট ফিচারের সঙ্গে স্মার্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।”
আরও একটি আকর্ষণীয় দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি—এআই প্রযুক্তিকে ঘিরে ভবিষ্যতের বিজ্ঞাপননির্ভর রাজস্ব মডেল। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে ওপেনএআইয়ের কিছু সেবা হয়তো বিজ্ঞাপনভিত্তিক হতে পারে, তবে তা যেন ব্যবহারকারীর গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ না করে, সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি সচেতন।
এই সতর্কতা আসলেই বড় এক বার্তা বহন করে। এআই নির্মাতা নিজেই যদি বলেন, “চোখ বুজে বিশ্বাস নয়,” তবে আমাদের বুঝে-শুনে, যাচাই করে এ প্রযুক্তির ব্যবহার করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন মানবিক বুদ্ধিমত্তাকে গ্রাস না করে, বরং তাকে সহায় করে—এটাই হতে হবে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য।
একদিকে যেমন এআই আমাদের কাজ সহজ করছে, তেমনি ভুল সিদ্ধান্তে বড় বিপদের কারণও হতে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহার করুন, তবে মানবিক বিচার-বিবেচনা দিয়ে। কারণ দিনশেষে সিদ্ধান্ত কিন্তু এখনো মানুষেরই।