সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
মাত্র আট সেকেন্ডেই ভাইরাল ভিডিও বানান, তাও আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে! এক্সে শুরু হলো নতুন কনটেন্ট বিপ্লব
অনলাইন ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এসেছে রীতিমতো বিস্ময়কর এক প্রযুক্তি! এবার চাইলে মাত্র একটি প্রম্পট লিখেই আপনি বানিয়ে ফেলতে পারেন ৮ সেকেন্ডের আকর্ষণীয় ভিডিও—তাও আবার সংলাপ ও শব্দসহ। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এই সুবিধা এখন হাতের মুঠোয় এনে দিচ্ছে এআইনির্ভর প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটির তৈরি চ্যাটবট “আস্ক পারপ্লেক্সিটি”।
ব্যবহার একেবারেই সহজ! এক্স ব্যবহারকারীরা পোস্টের মধ্যে @AskPerplexity অ্যাকাউন্টটিকে ট্যাগ করে ছোট একটি প্রম্পট লিখলেই হবে। এই চ্যাটবট প্রম্পট অনুযায়ী কল্পনাশক্তির সাহায্যে তৈরি করে দেবে একটি ছোট ভিডিও—সাথে যুক্ত থাকবে কৃত্রিম কণ্ঠে সংলাপ এবং প্রয়োজনীয় শব্দ। আপনি চাইলে ভিডিওটি নিজের মতো করে কাস্টমাইজও করতে পারেন।
এই এআই চ্যাটবটের বড় সুবিধা হলো, এতে ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে কোনো ভিডিও এডিটিং বা মডেলিং জানতে হয় না। শুধু একটি বক্তব্য বা কনসেপ্ট লিখলেই বাকি কাজ করে দেয় পারপ্লেক্সিটির অ্যালগরিদম। ফলে যেকোনো সাধারণ ব্যবহারকারীও এখন হয়ে উঠতে পারেন ভাইরাল ভিডিও নির্মাতা!
যেখানে মানুষ আর এআই মিলেমিশে কাজ করছে, সেখানে সতর্কতা না থাকলে বিপদ ঘটতেই পারে। ঠিক তেমনই মত দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এক্স আগে থেকেই একটি বিতর্কিত প্ল্যাটফর্ম—বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর জন্য এর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এ অবস্থায় আস্ক পারপ্লেক্সিটির মতো ভিডিও চ্যাটবট নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে। কারণ, এই ভিডিও সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় যদি যথাযথ নজরদারি না থাকে, তবে এআই-ভিত্তিক ভিডিও দিয়েই ছড়াতে পারে রাজনৈতিক মিথ্যাচার, তারকাদের হেয় করার চেষ্টা বা তথ্য বিকৃতি।
পারপ্লেক্সিটি যদিও আশ্বস্ত করেছে যে, তারা এআই চ্যাটবটে উন্নতমানের ফিল্টারিং সিস্টেম যুক্ত করেছে। এই ফিল্টার স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করতে পারবে একটি ভিডিওতে কোনো বিভ্রান্তিকর, অগ্রহণযোগ্য বা মিথ্যা কনটেন্ট আছে কিনা। এর ফলে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের আগেই আটকে দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে প্রযুক্তি যেহেতু চূড়ান্ত নয়, তাই বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধুমাত্র ফিল্টারেই ভরসা করে চললে ভবিষ্যতে বিপদের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
এই প্রযুক্তি উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই এক্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই অনেকেই রাজনীতিবিদ, বিশ্বনেতা কিংবা জনপ্রিয় তারকাদের ঘিরে মজার ও ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করছেন। হাস্যরসাত্মক কনটেন্টের পাশাপাশি কিছু সিরিয়াস ও সমাজমুখী ভিডিওও দেখা যাচ্ছে ফিডে।
এই চ্যাটবটের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়ে গেছে যে এখন মাঝে মাঝে ভিডিও তৈরিতে বিলম্ব ঘটছে, কারণ সার্ভার একসাথে এত অনুরোধ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
অতি সহজে ভিডিও তৈরি করার এমন সুবিধা হয়তো ভবিষ্যতের কনটেন্ট দুনিয়াকে আমূল বদলে দেবে। আগে যেখানে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ভিডিও বানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হতো, এখন শুধু একটি লাইন লিখলেই তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিডিও। আর তাতেই মিলছে মজাও, ভাইরাল হওয়ার সুযোগও!
তবে প্রযুক্তির ভালো দিকের সাথে খারাপ দিকও আসে। তাই ব্যবহারে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া এই নতুন সুযোগও হয়ে উঠতে পারে নতুন সংকটের উৎস।
শেষ কথা—এআই আপনার হাতেই দিয়েছে সৃজনশীলতার চাবিকাঠি, তবে কিভাবে আপনি তা ব্যবহার করবেন, সেটাই ঠিক করবে আপনি কনটেন্টের রাজা হবেন, নাকি বিতর্কের কারিগর।