রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
সাগর ও হিমেল পাড়ি দিলেন ইংলিশ চ্যানেল, গর্বিত বাংলাদেশ!
অনলাইন ডেস্ক
এক সময় সুইমিংপুলে ঝড় তোলা মাহফিজুর রহমান সাগর এবার ইংলিশ চ্যানেলের উত্তাল জলরাশিতে নিজের প্রতিভার নতুন অধ্যায় রচনা করলেন। অবসরের পর সাঁতারু গড়ার কারিগর থেকে এবার নিজেই নতুন রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন তিনি। সেই চ্যালেঞ্জ পূরণে তার সঙ্গী হন আরেক প্রতিশ্রুতিশীল বাংলাদেশি, নাজমুল হক হিমেল।
এই ঐতিহাসিক অভিযানে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন তিন ভারতীয় ও এক মেক্সিকান সাঁতারু। ছয়জনের টিম মিলে ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিটে সমুদ্রের বুকে আঁকেন বিজয়ের রেখা।
সাগর ও হিমেলের এই অসাধারণ যাত্রার আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র তিনজন সাঁতারু ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছিলেন। যাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ও প্রথম এশীয় হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন কিংবদন্তি ব্রজেন দাস। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১—মাত্র চার বছরের মধ্যে ছয়বার এই ভয়ংকর চ্যানেল পাড়ি দেন তিনি। এরপর ১৯৬৫ সালে আবদুল মালেক এবং ১৯৮৭ সালে মোশাররফ হোসেন সাফল্যের ছোঁয়া পান।
বাংলাদেশ সময় ২৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টা—যখন ইংল্যান্ডে রাত গভীর, তখনই মাহফিজুর ও হিমেল শুরু করেন তাদের স্বপ্নের অভিযান। দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তাল জলরাশি ভেদ করে তারা পৌঁছান উত্তর ফ্রান্সের উপকূলে। বাংলাদেশের হয়ে অলিম্পিকে অংশ নেওয়া সাগর এই যাত্রার প্রথম সাঁতারু ছিলেন।
এই অভিযান কেবল একটি চ্যালেঞ্জ নয়, এটি ছিল আত্মবিশ্বাস আর জাতীয় গর্বের প্রতীক। ৫ জুলাই যাত্রার সূচনা করলেও ২৫ জুলাইয়ের নির্ধারিত দিন বাতিল হয়ে যায় আবহাওয়ার রুদ্র রূপের কারণে। কিন্তু স্বপ্ন থেমে থাকেনি। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাগরকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ২০ কেজি!
অভিযানের আগে এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে সাগর লেখেন, “এটা রোলার কোস্টারের মতো অভিজ্ঞতা ছিল। বহু প্রতীক্ষার পর শুরু হচ্ছে আমাদের যাত্রা। ৩৭ বছরের অপেক্ষার অবসান। এটা কেবল আমার না—এটা তোমার, আমাদের, বাংলাদেশের। একসাথে এগিয়ে চলি।”
বাংলাদেশের ইতিহাসে আবারও লেখা হলো এক গৌরবময় অধ্যায়।