শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক হিসেবে অস্থায়ী পদে নিয়োগ পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনিয়মের কারণে এক মাসের বেতন ভাতা গ্রহণ করায় তাকে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিয়োগ বাতিলের ওই চিঠিতে জানানো হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে আপনাকে ২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা ছুটিজনিত শূন্য পদের বিপরীতে প্রভাষক (অস্থায়ী) পদে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলীর ১নং শর্ত অনুযায়ী যে শিক্ষকের শিক্ষা ছুটিজনিত শূন্য পদের বিপরীতে আপনাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, সে শিক্ষক শিক্ষা ছুটি শেষে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিভাগে যোগদান করেছেন। বর্তমানে এ বিভাগে কোনো শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে না থাকায় আপনার শিক্ষা ছুটিজনিত শূন্য পদের বিপরীতে প্রভাষক (অস্থায়ী) পদের নিয়োগ বাতিল করা হলো। এ আদেশ চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
এছাড়া, আপনি গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বেতন ও ভাতা বাবদ ৬২,৩৭৭ টাকা অতিরিক্ত গ্রহণ করেছেন। এ কারণে অতিরিক্ত দেওয়া বেতন ও ভাতা বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে দ্রুত জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
যেভাবে নিয়োগ পান ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল:
গত বছর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক নিয়োগে ‘জালিয়াতির আশ্রয়’ নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল ইসলামকে। ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সব প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য জানানো কথা থাকলেও স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম অবস্থানে থাকা ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জোবেদা আক্তারকে জানানো হয়নি। তিনি ভালো ফলাফলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ওই পদে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দাবি করা হয় যে, জোবেদাকে কল করে জানানো হয়েছে, তবে তার ফোন নম্বরের কল রেকর্ড ও গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে প্রাপ্ত কল লিস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো কলের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, চিঠি, ই-মেইল, কল কিংবা এসএমএসের মাধ্যমে প্রার্থীদের জানানো উচিত ছিল, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পালন করেনি।
এদিকে, নিয়ম ভেঙে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগ নেতা মো. মনিরুল ইসলামের নিয়োগের জন্য ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহাগ আলীকে ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা বোর্ড গঠন করা হয়।