বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
দেয়ালে লেখা ‘শেখ হাসিনা আসবে’ বদলে দিল পরিস্থিতি!
অনলাইন ডেস্ক
শহীদ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী ও জুলাই শহীদ দিবসের আগের রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে হঠাৎ করেই দেখা যায় ‘শেখ হাসিনা আসবে’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান— যা ঘুম ভাঙালো পুরো ক্যাম্পাসের।
সকালে উঠে দেখা যায়, লাল রঙের স্প্রে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ভবন, লাইব্রেরি, যাত্রীছাউনি এবং দেয়ালে বড় অক্ষরে এসব স্লোগান স্পষ্টভাবে লেখা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এগুলো মুছে ফেলেছে।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছে ছাত্রদল।
বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং শাখা ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে একজনকে দেয়ালে লিখতে দেখা গেলেও, প্রশাসন এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর উঠেছে বড় প্রশ্ন। কারণ, রাতের সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হলেও এবং নিরাপত্তা প্রহরী থাকার পরেও এমন কাজ কীভাবে হলো, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ— ৫ আগস্টের পর আবাসিক হল সংস্কার না হওয়া ও প্রশাসনের উদাসীনতায় এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, ছাত্রলীগের কিছু সদস্য নাম পাল্টে হলে থেকে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে হলে আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগ কর্মীদের জড়িয়ে পোস্ট দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে বেরোবি শাখার সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন এবং আবু সাঈদ হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শাহরিয়ার সোহাগ।
সুমন তার ফেসবুকে লেখেন, ৫ আগস্টের পর হলে সংস্কারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। আজও ছাত্রলীগের আত্মারা ঘুরে বেড়ায়। যেই এই দুঃসাহস দেখিয়েছে— তার সময় ফুরিয়ে এসেছে।
শাহরিয়ার সোহাগ লেখেন, ‘যার সামান্য ছাত্রলীগ পরিচয়ও আছে, তার হল ছাড়তে হবে। আর ছাড় দেওয়ার সময় নেই।’ এই বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অনেকেই হুবহু ভাষ্য ব্যবহার করে নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করছেন।
সুমন গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদ আবু সাঈদের দিবসে কঠোর নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগ নামধারীরা এই কাজ করে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের সুপারিশে হলে উঠা অনেকের দিকেই সন্দেহের আঙুল উঠেছে। আমরা দাবি করছি— তাদের সিট বাতিল করে মেধাভিত্তিক বরাদ্দ দিতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর কমিটির সদস্যসচিব ও শিক্ষার্থী রহমত আলী বলেন, শহীদ দিবসে এমন ন্যক্কারজনক কাজ অত্যন্ত দুঃখজনক। পুরো ক্যাম্পাস এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগের কিছু সদস্য অংশ নিলেও এখন কেউ কেউ আবার তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তাদের এখনই স্পষ্ট করে বলতে হবে— তারা কোন পক্ষে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। একজনকে দেখা গেলেও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি সে শিক্ষার্থী, নাকি বহিরাগত। তাকে শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।