শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন
ধানমন্ডি ৩২ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, হাসিনাকে হুঁশিয়ারি ছাত্রদের!
জুলাই-আগস্টে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “হাসিনা, তুমি ভুল প্রজন্মের সঙ্গে পাঙ্গা নিয়েছো!”
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় “শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ” নামের একটি ফেসবুক পেজে লাইভ বক্তব্য দেওয়ার ঘোষণা আসার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছিল চরমে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া হাজারো ছাত্র-জনতা ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ধানমন্ডি ৩২-এর উদ্দেশ্যে “বুলডোজার মিছিল” ও “মার্চ টু ধানমন্ডি ৩২” কর্মসূচির ডাক দেন।
বিকেলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে একাধিক পোস্ট দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। একই সুরে বিদেশে অবস্থানরত আলোচিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুকে লিখেন, “থাকবে না ৩২ নম্বর, থাকবে না!” তার পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ঘোষণা দেন, “আজ রাতেই বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমিমুক্ত হবে!”
এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের ঢল নামে। রাত ৮টার দিকে উত্তেজিত জনতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাসভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে এক বিশাল বুলডোজার এসে ভবনের সামনে থামে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেই বুলডোজার দিয়ে ঐতিহাসিক বাড়িটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটিও টিকিয়ে রাখা হয়নি—তাও চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলা হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।